‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী’ আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে ধরতে সাহায্য করেছিল বেলজিয়ান ম্যালিনইস। এবার ওই জাতের ছয়টি কুকুর যোগ দিচ্ছে মুম্বই পুলিশের ডগ স্কোয়াডে। বিশেষজ্ঞদের মতে ক্ষিপ্রতা, অধ্যাবসায়, ঘ্রাণশক্তি এবং নির্দেশ পালন করার ক্ষমতায় অন্য জাতের কুকুরদের পিছনে ফেলে দেয় ম্যালিনইস। সেই কারণেই বিস্ফোরক খোঁজা কিংবা বড়সড় জনসমাবেশের আগে সেই স্থানের নিরাপত্তা যাচাইয়ে এই জাতের কুকুরের জুড়ি মেলা ভার। বলা বাহুল্য, নতুন ছয়টি বেলজিয়ান ম্যালিনইসের যোগদানে শক্তি বাড়ল মুম্বই পুলিশের ডগ স্কোয়াডের।
ভারতের অধিকাংশ ডগ স্কোয়াডে ল্যাব্রাডর-ডোবারম্যানদের দাপট। এরপরেও দক্ষতার কথা মাথায় রেখে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ২০১৯ সাল পাঁচটি বেলজিয়ান ম্যালিনইসকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল মুম্বই পুলিশ। অর্থাৎ, নতুন করে ছয়টি একই জাতের কুকুর যোগ দেওয়ায় ডগ স্কোয়াডে বেলজিয়ান ম্যালিনইসের সংখ্যা হল ১১। এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানান, অন্য জাতের কুকুরগুলিকে অবসর দিয়ে শুধু বেলজিয়ান ম্যালিনইসকেই বম্ব স্কোয়াডে কাজে লাগানো হতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘বেলজিয়ান ম্যালিনইস খুব বুদ্ধিমান প্রাণী। দ্রুত নির্দেশ বুঝে নিয়ে কাজে নামতে পটু। দীর্ঘক্ষণ একটানা কাজ চালিয়ে যেতেও পারে এরা।’’
মাস কয়েক আগে কুকুরছানাগুলিকে মুম্বইয়ে আনা হয়েছে। তখন বয়স ছিল ৪৫ থেকে ৬০ দিন। এর মধ্যে একটি কুকুর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে বাহিনীতে যোগ দিয়েছে। বাকি পাঁচটি বেলজিয়ান ম্যালিনইস বর্তমানে পুনের শিবাজিনগরে অবস্থিত ডগ ট্রেনিং সেন্টারে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘‘পরবর্তীকালে আমরা আরও কয়েকটি বেলজিয়ান ম্যালিনইস আনার কথা ভাবছি। মূলত বিস্ফোরক চিহ্নিত করা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য।’’
২০১১ সালের মে মাসে পাকিস্তানে প্রবেশ করে অল-কায়দার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করেছিল মার্কিন নেভি সিলের (SEAL) একটি দল। তাদের সঙ্গ ছিল এই কুকুর। ওই অপারেশনের সাফল্যর পিছনে ছিল মার্কিন সেনার ডগ স্কোয়াডের এই ক্ষিপ্র কুকুরের দক্ষতাও। এরপরই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় বেলজিয়ান ম্যালিনইস।