হঠাৎ মুখের একদিক বেঁকে যাওয়া, হাত দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা চোখে দেখতে সমস্যা- এই লক্ষণগুলিকে অবহেলা করলেই বিপদ বাড়তে পারে। স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত লক্ষণ চিনে চিকিৎসা শুরু করা গেলে মস্তিষ্কের ক্ষতি কমানো এবং সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও অনেকটাই বাড়ে।
বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে এই বার্তাই দিল মণিপাল হসপিটাল (Manipal Hospital), ইএম বাইপাস ও মুকুন্দপুর। বিশেষ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত করতে ‘BE FAST’ পদ্ধতি, দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুরের নিউরোলজি বিভাগের ডিরেক্টর ও প্রধান ডা. জয়ন্ত রায়, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের নিউরোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. অম্লান মণ্ডল, মণিপাল হসপিটাল পূর্বাঞ্চলের নিউরোইন্টারভেনশন ও এন্ডোভাসকুলার সার্জারি বিভাগের ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সুকল্যাণ পুরকায়স্থ এবং মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের নিউরো-রেডিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. নির্মাল্য রায়।

স্ট্রোক চিনতে ‘BE FAST’
স্ট্রোকের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ মনে রাখতে সাহায্য করবে ‘BE FAST’ পদ্ধতি। B (Balance) অর্থাৎ, হঠাৎ শরীরের ভারসাম্য হারানো, E (Eyes) অর্থাৎ, দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন বা ঝাপসা দেখা, F (Face) অর্থাৎ, মুখের একদিক বেঁকে যাওয়া, A (Arms) অর্থাৎ, একটি হাত দুর্বল বা অসাড় হয়ে যাওয়া, S (Speech) অর্থাৎ, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বুঝতে অসুবিধা এবং T (Time) অর্থাৎ, সময় নষ্ট না করে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। এই লক্ষণগুলির একটি দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। কখন লক্ষণ শুরু হয়েছে, সেই সময়টিও মনে রাখা জরুরি।
ডা. জয়ন্ত রায়ের কথায়, স্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসাজনিত পরিস্থিতি, যেখানে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ চোখে দেখতে সমস্যা, শরীরের ভারসাম্য রাখতে অসুবিধা বা শরীরের একদিক দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু না হলে মস্তিষ্কের আরও ক্ষতি হতে পারে এবং সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও অনেকটাই কমে।
কম বয়সেও হতে পারে স্ট্রোক
স্ট্রোক শুধু বয়স্কদের রোগ, এই ধারণা ভুল বলে সতর্ক করেন ডা. অম্লান মণ্ডল। তাঁর মতে, তরুণরাও অনেক সময় স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণকে সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। বয়স কম হলেও হঠাৎ কথা বলতে অসুবিধা, দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন বা শরীর দুর্বল হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডা. সুকল্যাণ পুরকায়স্থ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাবার, শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ার উপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে ট্রানজিয়েন্ট ইসকিমিক অ্যাটাক (টিআইএ) সম্পর্কেও সতর্ক করা হয়। স্ট্রোকের মতো লক্ষণ সাময়িকভাবে দেখা দিয়ে সেরে গেলেও নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়। এটি ভবিষ্যতে স্ট্রোকের আশঙ্কার সতর্কবার্তা হতে পারে।
ডা. নির্মাল্য রায়ের কথায়, বড় ধরনের ইসকেমিক স্ট্রোকে প্রতি মিনিটে প্রায় ২ কোটি মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হতে পারে। তাই লক্ষণ সেরে যাওয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের বার্তা, স্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন, সময় নষ্ট করবেন না, দ্রুত চিকিৎসাই মস্তিষ্কের ক্ষতি ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অক্ষমতার আশঙ্কা কমানোর অন্যতম চাবিকাঠি।
