ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত। সাম্প্রতিক অতীতে এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা প্রায় নিত্যদিনের। কখনও পরিচিত বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে চলছে প্রতারণা চক্র, কখনও বা ভুয়ো কলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জালিয়াতরা। মূলত বয়স্করাই এই প্রতারণা চক্রের শিকার। এহেন পরিস্থিতিতে সাইবার প্রতারণা (Digital Fraud) নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন উঠে আসে ডিজিটাল প্রতারণার বিষয়টি। স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ব্যাঙ্কগুলি কেন এই প্রতারণা রুখতে পারছে না? তিনি আরও জিজ্ঞাসা করেন, ব্যাঙ্কগুলি যখন দেখতে পাচ্ছে যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে অবিশ্বাস্য অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে তাহলে তখনই এই জালিয়াতি রুখে দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে না কেন?
এখানেই শেষ নয়। ব্যাঙ্কগুলিকে উদ্দেশ্য করে আরও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর কথায়, ব্যাঙ্কগুলির উচিত রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করা। যেসমস্ত গ্রাহক তুলনামূলকভাবে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে দুর্বল, তাঁদের রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাঙ্কগুলিকে। যেসমস্ত মানুষ ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হয়ে টাকা খোয়াচ্ছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ব্যাঙ্কগুলিকে। যত টাকা খুইয়েছেন সেই অঙ্কটাই তুলে দিতে হবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যদি ব্যাঙ্কের তরফে নজরদারির গাফিলতি প্রমাণিত হয় তাহলেই মিলবে এই ক্ষতিপূরণ।
এই নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি অবশ্য আমজনতাকে মৃদ তিরস্কারও করেছেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর কথায়, “এঁদের হয়েছেটা কী? এইভাবে ফাঁদে পা দিচ্ছেন কেন? সামান্য বিষয়টা বুঝতে পারছেন না? মোবাইলে কি গ্রেপ্তার করা যায় নাকি? মোবাইলটা সাহস করে দেওয়ালে ছুড়ে মারুন, অ্যারেস্ট শেষ হয়ে যাবে।” প্রধান বিচারপতি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষিত ব্যক্তিরাও যদি এইভাবে ফাঁদে পা দেন তাহলে সেটা খুবই হতাশার বিষয়। এদিন শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি। তিনি জানিয়েছেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে ইতিমধ্যেই এই নিয়ে আলোচনা করছে ব্যাঙ্কগুলি।
Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)
