Hashtagintro

তেলেভাজা নয়, পুকুরের জলে ফলছে ‘সিঙারা’! শীতে পানিফল চাষে চাঙ্গা নদিয়ার গ্রামীণ অর্থনীতি

তেলেভাজা সিঙ্গারা প্রায় সকলেরই পরিচিত। কিন্তু পুকুরের জলে জন্মানো সিঙ্গারার কথা শুনেছেন কি? দেখতে অনেকটা সিঙ্গারার মতো, তবে এটি কোনও তেলেভাজা খাবার নয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই জলজ ফলের নাম পানিফল। শীতের মরশুম শুরু হতেই নদিয়ার বিভিন্ন বাজারে দেখা মিলছে এই মরশুমি ফলের। শুধু স্বাদে নয়, চাষ ও বিক্রির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে পানিফল।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি নদিয়া জেলার কালীনয়নপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ব্যাপকভাবে পানিফলের চাষ হয়। মূলত পুকুর ও জলাশয়ের জলে এই ফলের উৎপাদন হয়। শীতকালীন ফল হওয়ায় বছরের অন্য সময়ে বাজারে এর তেমন দেখা মেলে না। তবে শীতের শুরুতেই বাজারে আসতে শুরু করে পানিফল। ট্রেন, বাস, রেলস্টেশন থেকে শুরু করে স্থানীয় বাজার—বিভিন্ন জায়গাতেই এই ফলের বিক্রি চোখে পড়ে। মরশুমি এই ফল কিনতে ক্রেতাদের মধ্যেও যথেষ্ট আগ্রহ দেখা যায়।

পানিফলের চাহিদার অন্যতম কারণ এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ। সিঙারার মতো দেখতে হওয়ায় অনেকের কাছে এটি জলের সিঙারা নামেও পরিচিত। খোসা ছাড়িয়ে সরাসরি খাওয়া যায় এই ফল। শীতের মরশুমে সাধারণ মানুষের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয় একটি খাবার হয়ে উঠেছে। তবে পানিফলের গুরুত্ব শুধু খাদ্য হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়। এই ফলের চাষ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু মানুষের জীবিকা। চাষিরা জলাশয়ে পানিফল উৎপাদন করে যেমন বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনই হকার ও খুচরো বিক্রেতারাও এই মরশুমি ফল বিক্রি করে উপার্জন করছেন। শীতের কয়েকটি মাস পানিফলের ব্যবসা অনেক গ্রামীণ পরিবারের কাছে বাড়তি রোজগারের পথ খুলে দেয়। সব মিলিয়ে, পুকুরের জলে জন্মানো এই ‘জলের সিঙ্গারা’ এখন নদিয়ার শীতের বাজারে পরিচিত মুখ। একদিকে মানুষের রসনাতৃপ্তি, অন্যদিকে চাষি ও বিক্রেতাদের বাড়তি উপার্জন—দুইয়ের যোগসূত্রেই পানিফল হয়ে উঠেছে গ্রামীণ অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মরশুমি অবলম্বন।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language