সুকেশ চন্দ্রশেখরের ২০০ কোটির আর্থিক জালিয়াত মামলার অভিশাপ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না নোরা ফতেহির। ‘ঠগ’ সুকেশের থেকে বহুমূল্য উপহার নেওয়ার অভিযোগে অতীতে একাধিকবার ইডি থেকে দিল্লি পুলিশের ম্যারাথন জেরার মুখে পড়তে হয়েছে বলিপাড়ার মরোক্কান সুন্দরীকে। এবার সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ফের নোরাকে সমন দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের।
‘ঠগ’ সুকেশের দাবি, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় একটি বাড়ি কেনার জন্য তিনি নোরা ফতেহিকে কয়েক কোটি টাকা দিয়েছিলেন। এছাড়াও নোরাকে দেওয়া উপহারের তালিকায় রয়েছে বহুমূল্য প্রসাধনীদ্রব্য থেকে বিদেশি ব্র্যান্ডের ব্যাগ, বিলাসবহুল গাড়ি-সহ আরও কত কী। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে দু’জনের কথোপকথনও সেসময়ে ফাঁস করেন সুকেশ।

সুকেশ মামলায় নোরা ফতেহি যে জ্যাকলিন ফার্ন্ডান্ডেজের ‘দোসর’, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না। চলতি বছরের আগস্ট মাসেই সুকেশ চন্দ্রেশেখরের হাতে লেখা একটি চিঠি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। যেখানে ‘দিলবর গার্ল’কে নিয়ে বোমা ফাটিয়েছিলেন তিনি। এক নয় একাধিক অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল ওই চিঠিতে। ‘ঠগ’ সুকেশের দাবি, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় একটি বাড়ি কেনার জন্য তিনি নোরা ফতেহিকে কয়েক কোটি টাকা দিয়েছিলেন। এছাড়াও নোরাকে দেওয়া উপহারের তালিকায় রয়েছে বহুমূল্য প্রসাধনীদ্রব্য থেকে বিদেশি ব্র্যান্ডের ব্যাগ, বিলাসবহুল গাড়ি-সহ আরও কত কী। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে দু’জনের কথোপকথনও সেসময়ে ফাঁস করেন সুকেশ। এমনকী তিনি এও দাবি কেরছিলেন যে, জ্যাকলিনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার জন্য প্রতিনিয়ত তাঁকে উসকানি দিতেন নোরা ফতেহি। সুকেশের অভিযোগ, জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নোরা ঈর্ষান্বিত ছিলেন এবং বারবার ফোনে যোগাযোগও করতেন। দিনে প্রায় দশবার ফোন করে বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন। সেই প্রেক্ষিতেই এবার সুকেশ মামলায় ২ নভেম্বর দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে নোরা ফতেহিকে ‘সরকারী সাক্ষী’ হিসেহে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তৃতীয় চার্জশিটে নোরা ফাতেহির নাম সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সুকেশ চন্দ্রশেখরের ২০০ কোটির প্রতারণা মামলায় নাম জড়িয়ে বিগত কয়েক বছর ধরেই জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের কেরিয়ার থেকে ব্যক্তিগতজীবন জেরবার।
উল্লেখ্য, সুকেশ চন্দ্রশেখরের ২০০ কোটির প্রতারণা মামলায় নাম জড়িয়ে বিগত কয়েক বছর ধরেই জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের কেরিয়ার থেকে ব্যক্তিগতজীবন জেরবার। বারবার আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। এমনকী পড়তে হয়েছে ইডি আধিকারিকদের জেরার মুখেও। চলতি বছরের আগস্ট মাসেই সংশ্লিষ্ট মামলায় নাম জড়ানোয় কেঁদে ফেলেছিলেন নোরা ফতেহি। নোরা জানান, সুকেশের সঙ্গে নাম জড়ানোয় একাধিক বিজ্ঞাপন এবং সংস্থার কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। একের পর এক কাজ হাতছাড়া হওয়ায় ঘিরে ধরেছিল মানসিক অবসাদ। প্রায় দু’বছর ধরে এই যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে নোরাকে। তাই স্বাভাবিকভাবে সুকেশের সঙ্গে নাম জড়ানোর কথা মনে পড়লে আজও শিউরে ওঠেন অভিনেত্রী।
