পানমশলার বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের শোকজ নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ অজয় দেবগণ (Ajay Devgn)। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনে মুখ দেখিয়ে বিপাকে পড়েছেন শাহরুখ খান, টাইগার শ্রফও। গত ১১ আগস্ট মহারাষ্ট্রের খাদ্য সুরক্ষা প্রধান তুকারাম মুন্ডে একেবারে সিংহম মেজাজে তারকাদের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করেন। ওই নোটিসে গুটখার বিজ্ঞাপনে তাঁদের ভূমিকার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস রেগুলেশনের অধীনে জারি করা নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করলেন অভিনেতা।
বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী এবং বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার ডিভিশন বেঞ্চে আগামী ৪ নভেম্বর মামলার শুনানি হওয়ার কথা। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট এই তিন অভিনেতার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। উল্লেখ্য, ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার উপর এখনও কোনও স্থগিতাদেশ জারি হয়নি। গত ১৪ আগস্ট মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অভিনেতাদের নোটিস পাঠিয়ে বিজ্ঞাপনে তাঁদের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। নোটিস গিয়েছিল অজয় দেবগনের জুহুর বাড়িতে।

মিডিয়া রিপোর্ট মোতাবেক, এফডিএ-র এই নোটিস এবং খাদ্য সুরক্ষা আইনের কিছু বিধির সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। অভিনেতার দাবি, পণ্য প্রস্তুতকারক সংস্থাকে নোটিস না পাঠিয়ে, শুধুমাত্র তারকাদের টার্গেট করে এই নোটিস পাঠানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এছাড়াও ‘সিংহম’ অজয়ের দাবি, তিনি বর্তমানে এই ব্র্যান্ডের সাথে যুক্ত নন।

মহারাষ্ট্রের খাদ্য সুরক্ষা প্রধান তুকারাম মুন্ডে। তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের জন্যই তিনি পরিচিত। অভিনেতাদের কাছে চুক্তিপত্র, প্রচার সংক্রান্ত বিবরণ, অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত নথি-সহ সব ধরনের তথ্যপ্রমাণ তলবও করেছেন। সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রচারমূলক সমস্ত পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার কথাও নোটিসে উল্লেখ করেছিলেন। এফডিএ কমিশনার তুকারাম মুন্ডে জানিয়েছেন, তিন অভিনেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
