হাঁড়িয়া খেয়ে ‘মাতাল’ হাতি। রাতভর তাণ্ডবে নেশার ঘোরে ভাঙল চারটি বাড়ি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়াল ডুয়ার্সের বানারহাটের আমবাড়ি ও সুরেন্দ্রনগর চা বাগান এলাকায়। মাতাল হাতির ভয়ে রাত জাগলেন দুই বাগানের বাসিন্দা। অন্যদিকে সাতসকালে আলিপুরদুয়ারে স্কুল সংলগ্ন এলাকায় একটি বুনো হাতি ঢুকে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। শনিবার উত্তর লতাবাড়ির ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একটি হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। স্কুল চত্বর ও আশেপাশের বাড়ির সামনে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায় হাতিটিকে। স্কুল খোলার সময় হওয়ায় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বন দপ্তরের কর্মীরা। বনকর্মীরা হাতিটিকে ঘিরে রেখে জঙ্গলে ফেরানোর ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি শুক্রবার গভীর রাতে নাগরাকাটার বামনডাঙা চা-বাগানে বুনো হাতির হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হল দু’টি ঘর।
পার্শ্ববর্তী গরুমারা জঙ্গল থেকে একটি দাঁতাল হাতি বেড়িতা চা-বাগানের বিচলাইনে ঢুকে পড়ে। ঢুকেই হাতিটি আন্দ্রিয়াস খরিয়ার দুটি বাড়ির দেওয়া ভেঙে দেয়। অবশ্য হাতির উপস্থিতি টের পেয়ে আন্দ্রিয়াস খরিয়া বাইরে বেরিয়ে যান। সেখানে হাতি দু’টি ঘর ভাঙে। হাতিটি ঘরে ঢুকে মজুত রেশনের ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা খেয়ে ফেলে। আধঘন্টা তাণ্ডব চালিয়ে ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ ফের জঙ্গলে ফিরে যায় সেটি।
এদিকে শুক্রবার রাতে জলপাইগুড়ির আমবাড়ি চা-বাগানে ঢুকে পড়ে দলছুট একটি হাতি। বাগানে ঢুকেই এক বাড়ির সামনে রাখা কয়েক হাঁড়ি হাঁড়িয়া সাবাড় করে ফেলে বলে অভিযোগ। আর তারপরই শুরু হয় হাতির মাতলামো। পরপর দুটি বাড়ি ভাঙচুর করে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক ফ্লোরেন্স কেরকাট্টা জানান, হাতিটা এতটাই মাতাল হয়ে পড়েছিল যে, শরীরের কোনও নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিল না। একটা বাড়ির গায়ে হেলে পড়তেই বাড়িটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে যায়। তাঁর বাড়িও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এরপর হাতিটি টলতে টলতে সুরেন্দ্র নগর চা বাগানে ঢুকে পড়ে। সেখানেও দুটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বিন্নাগুড়ি, মরাঘাট রেঞ্জের বনকর্মীরা ছুটে আসেন। রাতভর হাতিটিকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। সকালে নেশা কমলে হাতিটি একাই মরাঘাটের জঙ্গলে চলে যায়। হাঁড়িয়ার লোভে পুনরায় যাতে লোকালয়ে চলে না আসে, তার জন্য হাতিটির গতিবিধির উপর নজরদারি বসানো হয়েছে বলে বনদপ্তর জানিয়েছে।