মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুমকির পর থেকেই বেপাত্তা সিপিএম নেতা তপন ঘোষ। তাঁকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে খবর। ঘরেও নেই গড়বেতার একসময়ের ‘দাপুটে’ এই নেতা। খোঁজ দিতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও। এমনকী বন্ধ রয়েছে মোবাইল ফোনও। ফলে তাঁর অন্তর্ধান ঘিরে ক্রমশ তৈরি হচ্ছে ধোঁয়াশা। কোথায় তিনি? গ্রেপ্তারের আশঙ্কাতেই ফের গা ঢাকা দিয়েছেন তপন ঘোষ? যদিও স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, সঠিক সময়েই আত্মপ্রকাশ করবেন তিনি। শুধু তাই নয়, আসবেন সংবাদমাধ্যমের সামনেও।
বর্তমানে গড়বেতা এরিয়া কমিটির সম্পাদক তপন ঘোষ। মাঝে কিছুটা সময় নিষ্ক্রিয় ছিলেন। মন দিয়েছিলেন তাঁর শিক্ষকতা ও ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে। জানা যায়, পরিবারের একটি হিমঘর এবং পেট্রোল পাম্প রয়েছে। তা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। তবে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন থেকে দলে ফের সক্রিয় হন তপন। এমনকী গড়বেতায় বিধানসভায় তাঁকে প্রার্থীও করেছিলেন আলিমুদ্দিনের ম্যানেজাররা। যদিও জয় আসেনি। কিন্তু তাঁর পুরানো গড়ে দলের খুঁটি শক্ত করতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তপন ঘোষ। যার পুরস্কারস্বরূপ দল তাঁকে এরিয়া কমিটির সম্পাদকও করেছে। এরপরেই ধীরে ধীরে সংগঠনও গোছানোর কাজে হাত লাগিয়েছিলেন। এমন সময় হঠাৎ গড়বেতার ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’ এই সিপিএম নেতার অন্তর্ধান ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর কোথায় গেলেন তিনি? তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
একাংশের দাবি, শনিবার রাতেও গড়বেতার ধোবাবেড়িয়ায় তাঁর বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু আজ রবিবার থেকে বেপাত্তা তিনি। কিন্তু কেন তপন ঘোষকে নিয়ে এত বিতর্ক? এর উত্তর লুকিয়ে ২০০১ সালের ৪ জানুয়ারির অভিশপ্ত রাতে। গড়বেতার ছোট আঙারিয়া গ্রামে তৃণমূল কর্মী বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে বৈঠক চলাকালীন অগ্নিকাণ্ড ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় নাম জড়ায় সিপিএমের। অভিযোগ ওঠে, ঘটনার পিছনে সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই ছিল। বাম আমলে ‘ছোট আঙারিয়া গণহত্যা’র ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল সে সময়ের রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাত। তদন্তে নেমে একের পর এক সিপিএম নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিল তপন ঘোষ।
যদিও বেশ কয়েক বছর আগে এই ঘটনার মূল সাক্ষী বক্তার মণ্ডলও মারা গিয়েছেন। এরপর কংসাবতী নদী দিয়ে বয়ে গিয়েছে প্রচুর জল। রাজনীতিতেও একাধিক বাঁক এসেছে। সেই ঘটনার পর রাজ্যে দুটি সরকার বদলে গিয়েছে। এখন রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায়। রাজ্যে পালাবদলের পর ফের শনিবার গড়বেতায় দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রাম থেকে গড়বেতার ‘ছোট আঙারিয়া গণহত্যা’র ফাইল খোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী প্রকাশ্য সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ সুপারকে তপন ঘোষকে খুঁজে আনার নির্দেশ দেন। বলেন, ”ওকে(তপনকে) জেলের মধ্যে দেখতে চাই।” এরপরেই রহস্যজনকভাবে উধাও তপন ঘোষ!
