সিনেমা মুক্তির আগে ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে চিন্তিত থাকেন প্রতিটি কলাকুশলী। বক্স অফিসের আয়ের নিরিখেই ছবির সাফল্য ও ব্যর্থতার বিচার হয়। আগামী ২৪ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহের আলো দেখবে শাহরুখ খান পরিচালিত ‘কিং’। ২ নভেম্বর শাহরুখের জন্মদিনের রাতেই হবে ছাব্বিশের সিনে ভাগ্য নির্ধারণ। মাস পয়লা থেকে হিসেব করলে বাহান্ন দিন পর মুক্তি পাবে শাহরুখের ‘কিং’। এই তারিখগুলির গাণিতিক সমন্বয়ের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এক রহস্য যা জ্যোতিষ বিশ্লেষকদেরও অবাক করেছে। ‘কিং’ মুক্তির মোক্ষম সময়ই এক বিরল গ্রহের অবস্থানগত পরিবর্তন! যা ‘কিং’-এর ভবিষ্যৎ এবং শাহরুখ খানের জীবনের আগামী অধ্যায়ের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।
২৪ ডিসেম্বরের তিন দিন আগে অর্থাৎ ২১ ডিসেম্বর, গ্রহসেনাপতি মঙ্গল তার গতিপথ পরিবর্তন করবে। তাজিক জ্যোতিষচক্রে শুরু হবে মঙ্গলের মুদ্দা দশা। অন্যদিকে, বিমশোত্তরী দশায় তৈরি হবে বুধ-মঙ্গলের ত্রিকোণ সম্পর্ক। কোনও ছবির মুক্তির ঠিক আগে মঙ্গলের এমন জোরাল প্রভাব তৈরি হলে বক্স অফিসের লাভে সুনামি দেখা যেতে পারে। এর অর্থ, ‘কিং’-এর মুক্তির সময় মঙ্গলের দ্বৈত প্রভাব কাজ করবে। তবে মজার বিষয় হল, এই দুই মঙ্গল এক রকম নয়। শাহরুখের জন্মছকে মঙ্গল বৃশ্চিক রাশিতে নিজস্ব ক্ষেত্রে অবস্থান করছে এবং দ্বিতীয় ঘরে অত্যন্ত শক্তিশালী। অন্যদিকে বার্ষিক রাশিফলে মঙ্গল অবস্থান করছে তার ঠিক নীচের রাশি কর্কটে।

একদিকে শক্তিশালী মঙ্গল আর্থিক উন্নতি, অ্যাকশন, সাহস এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত সূচনার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, নীচস্থ মঙ্গল বাড়িয়ে দিতে পারে খরচ, বিবাদ, আঘাত, তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা এবং উপার্জনের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যতা। তাই শাহরুখ খানের কাছে ‘কিং’-এর ক্ষেত্রে সাফল্যের শিখরে পৌঁছনোর সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা। অন্যদিকে শাহরুখ খানের জন্মছক অনুযায়ী তাঁর লগ্ন তুলা। যেখানে নীচস্থ সূর্য, চতুর্থ ঘরে চন্দ্র, দ্বিতীয় ঘরে মঙ্গল, বুধ ও কেতু, পঞ্চম ঘরে শনি, অষ্টম ঘরে রাহু এবং নবম ঘরে বৃহস্পতির অবস্থান।

প্রথম দৃষ্টিতে তুলা লগ্নে নীচস্থ সূর্যের অবস্থানকে দুর্বল বলে মনে হতে পারে। জ্যোতিষশাস্ত্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই অবস্থান জীবনের প্রথম দিকে আত্মপরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্ব, বাবার সঙ্গে মানসিক দূরত্ব এবং নিজেকে প্রমাণ করার প্রবল আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু এই সূর্যই আবার তুলার অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে স্বীকৃতি, সম্মান এবং জনমানসে নিজের পরিচিতি তৈরি করা তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
যে অবস্থান একসময় আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলেছিল সেটিই যেন তাঁকে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দিচ্ছে। শাহরুখ খান উত্তরাধিকারসূত্রে নিজের খ্যাতি পাননি; বরং নিজের পরিশ্রম, প্রতিভা এবং ব্যক্তিত্বের জোরে তৈরি করেছেন এক অনন্য পরিচয়। তাঁর জন্মছকের সূর্য যেন সেই ইঙ্গিত করে। শাহরুখ খান নিজের পরিচয় নিজেই তৈরি করেছেন, আর সেই পরিচয়ই আজ তাঁকে বিশ্বজুড়ে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
