বাবরি মসজিদ ইস্যু উসকে ফের হুঁশিয়ারি নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir)। আগামী ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেওয়ার হুঙ্কার দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের উদ্দেশে বিধায়কের চ্যালেঞ্জ, ‘‘প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক।” রবিবার বেলডাঙার বরি মসজিদ প্রাঙ্গনে আয়-ব্যয়ের হিসেবনিকেশ সংক্রান্ত সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই ঝাঁজাল ভাষায় হুমকি দিলেন হুমায়ুন কবীর। পালটা কোনও অশান্তি রুখতে প্রশাসনও প্রস্তুত।
হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘‘বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেব। প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক পুলিশ প্রশাসন। এক মাস পাঁচ দিন পরে আমি আবার ঘোষণা করলাম, মুর্শিদাবাদের প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে রুখে নেবেন। ওই দিন আবার ৩৪ নং জাতীয় সড়ক, রেজিনগর থেকে বহরমপুর তিরিশ কিলোমিটার আমার কবজায় থাকবে।”
রবিবার বেলডাঙার সভায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘‘বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেব। প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক পুলিশ প্রশাসন। এক মাস পাঁচ দিন পরে আমি আবার ঘোষণা করলাম, মুর্শিদাবাদের প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে রুখে নেবেন। ওই দিন আবার ৩৪ নং জাতীয় সড়ক, রেজিনগর থেকে বহরমপুর তিরিশ কিলোমিটার আমার কবজায় থাকবে। যেদিন থেকে কৃষ্ণনগর থেকে বহরমপুর, ডোমকল, জলঙ্গি থেকে বহরমপুর, সাঁইথিয়া থেকে কান্দি হয়ে বহরমপুর, ওদিকে বর্ধমান থেকে যেটা নবদ্বীপ ব্রিজ হয়ে সমস্ত রাস্তা চার-পাঁচ ঘণ্টার জন্য এই মুসলিম ভাইরা, এই বাবরি মসজিদের আবেগে তাঁরা সাড়া দিয়ে রাস্তায় ছিল। পুলিশ তখন কিচ্ছু করতে পারেনি। পুলিশ জানে, আমরা কেউ আইনশৃঙ্খলা ভাঙিনি, আগামী দিনেও ভাঙব না। কিন্তু আমার আর্জি, আপনারা ২০২৬ সালের ৬ ডিসেম্বর সবাই আমার সঙ্গে থাকবেন।”
গত বছর তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই হুমায়ুন বাবরি মসজিদকে ইস্যু করে রাজনীতির আঙিনায় নেমেছিলেন। ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে ওইদিনই তাঁর নিজের এলাকা বেলডাঙায় মসজিদ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুলিশের তরফে কড়া ব্যবস্থাও ছিল। সেই পুলিশ প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করেই হুমায়ুন ফের হুঁশিয়ারি দিলেন,‘‘ ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক।”
এদিন তিনি জানান, প্রায় ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাবরি মসজিদটি হবে দোতলা। তাতে মোট ৮০ হাজার মানুষ নমাজ পড়তে পারবেন। এছাড়া মসজিদ চত্বরে আরও ২০ হাজার জনের নমাজপাঠের ব্যবস্থা থাকবে। মসজিদের বেসমেন্টে বেশ কয়েকটি ঘর তৈরি হচ্ছে। বাইরে থাকা আসা দর্শনার্থীরা সেখানে ভাড়া দিয়ে থাকতে পারবেন। আগামী ৬ ডিসেম্বর এর উদ্বোধন হবে। ওইদিন মুসলিম সমাজের সকলকে নিয়ে রাস্তা অবরোধে নামবেন হুমায়ুন।
