স্বামী ও স্ত্রীকে মুখোমুখি জেরার সময় মতবিরোধ! ইউনেসকোর নাম ভাঁড়িয়ে পুজোর প্রিভিউ পাস বিক্রির বিপুল টাকার দুর্নীতির মামলার তদন্তে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন ও মধুছন্দা সেনকে মুখোমুখি জেরা করেছে লালবাজারের ‘সিট’। কিন্তু গোয়েন্দা পুলিশের সামনেই ইন্দ্রনীল ও মধুছন্দা তর্কাতর্কি শুরু করেন বলে জানিয়েছে লালবাজারের সূত্র। মধুছন্দার দাবি, তিনি ইন্দ্রনীলকে এভাবে টাকা তুলতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু ইন্দ্রনীল তা শোনেননি। সম্প্রতি এই ব্যাপারে দু’জনকে মুখোমুখি জেরায় বসানোর পরই দু’জনের মধ্যে তর্ক বেধে যায়। দু’দিন মধুছন্দাকে ‘সিট’ জেরা করেছে। পুলিশের দাবি, ইন্দ্রনীলের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর প্রেসিডেন্ট হিসাবে দুর্নীতিমূলক কাজকর্মের ব্যাপারে তিনি পুরোটাই জানতেন। তাই ফের তাঁকে জেরা করতে পারে লালবাজার।
ইন্দ্রনীল সেনের মামলায় ‘মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার’ বা এমপিও-র ধারা লাগু করতে চলেছে লালবাজার। এই সংশোধিত নতুন আইন দেশের মধ্যে প্রথম ইন্দ্রনীলের মামলায় কলকাতা পুলিশ প্রয়োগ করতে চলেছে।
এদিকে, মঙ্গলবার ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ে আভেরি সেনকে জেরার জন্য লালবাজারে তলব করেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। কিন্তু হাজিরা না দিয়ে ইন্দ্রনীলের মেয়ে পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি অসুস্থ। তাই আসতে পারছেন না। বুধবার দুপুরে ফের তাঁকে তলব করা হয়েছে। এবারও তিনি না এলে দ্বিতীয়বারের জন্য তাঁকে নোটিস পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। ইন্দ্রনীল সেনের মামলায় ‘মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার’ বা এমপিও-র ধারা লাগু করতে চলেছে লালবাজার। এই সংশোধিত নতুন আইন দেশের মধ্যে প্রথম ইন্দ্রনীলের মামলায় কলকাতা পুলিশ প্রয়োগ করতে চলেছে। পুলিশের দাবি, যেহেতু হিসাবহীন বিপুল টাকার সূত্র ইন্দ্রনীল দেখাতে পারেননি। গান পেয়ে ওই টাকা তিনি রোজগার করেছেন, এমন দাবি করলেও তার কোনও প্রমাণ মেলেনি। তাই ইন্দ্রনীল সেনের মামলায় এমপিও-র ২ ও ৯ নম্বর ধারা লাগু করার জন্য ব্যাঙ্কশাল আদালতে আবেদন করতে চলেছে লালবাজার। বেআইনিভাবে অর্থ, সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগকে এই ধারায় যুক্ত করা হতে পারে। এই ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এর সঙ্গে দুর্নীতি দমন আইন যুক্ত করার ব্যাপারেও আলোচনা চলছে।
লালবাজার জানিয়েছে, পুজোর পাস বিক্রি ছাড়াও পর্যটনের টেন্ডার নিয়েও বিপুল টাকার দুর্নীতির হদিশ পেয়েছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ তিনটি সংস্থার দিকেই অভিযোগ আঙুল পুলিশের। পর্যটন দপ্তরের কাছ থেকে এই সংক্রান্ত নথি চেয়ে পুলিশের পক্ষে আবেদন জানানো হয়েছে। মূলত সেই কারণেই ইন্দ্রনীলের তদন্তে ‘সিট’-এর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাঁচজনের জায়গায় সদস্য সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ন’জন। জালিয়াতি দমন শাখা, ব্যাঙ্ক জালিয়াতি দমন শাখার আধিকারিকদেরও ‘সিট’-এ যুক্ত করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ইন্দ্রনীলের স্ত্রী-সহ ৯ জনকে গোয়েন্দারা লালবাজারে জেরা করেছেন। তাঁদের মধ্যে ইন্দ্রনীলের সংস্থাগুলির তিনজন কর্মচারীও রয়েছেন। পুজোর পাস বিক্রির সময় ইউনেসকোর লোগো ব্যবহার নিয়ে এদিন ফের ইউনেসকোর দিল্লির অফিসে চিঠি পাঠিয়েছে লালবাজার। যদিও এখনও এই বিষয়ে কোনও উত্তর আসেনি বলেই জানিয়েছেন পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা।
