সামশেরগঞ্জে সিআইডি ইনস্পেক্টরের গুলিতে সামাউল হক (৪০)-এর মৃত্যুর ঘটনায় সিট (বিশেষ তদন্তকারী দল) গঠন করল রাজ্য পুলিশ। গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে সামশেরগঞ্জে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সিআইডির ইনস্পেক্টরের গুলিতে মৃত্যু হয় বিজেপি কর্মী খুনে অভিযুক্ত সামাউলের। পরে রাতে সামশেরগঞ্জ থানায় এফআইআর করেন সিআইডির ইনস্পেক্টর অক্ষয় পাল। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছেন জঙ্গিপুরের সার্কেল ইনস্পেক্টর স্বরূপ বিশ্বাস। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই মামলার তদন্তের জন্য ৫ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে।
এই পাঁচজনের সিটে রয়েছেন ফরাক্কা এসডিপিও দিবেন্দু তামাং, সুতির এসআই অভিজিৎ সরকার ও নিলেশ চন্দ্র সরকার, সামশেরগঞ্জ থানার এসআই মিঠুন হালদার ও জঙ্গিপুর মহকুমা সার্কেল ইন্সপেক্টর স্বরূপ বিশ্বাস।
রাজ্য পুলিশের ডিআইজি (মুর্শিদাবাদ রেঞ্জ) অজিত সিংহ যাদব জানান, রাজ্যের নির্দেশে এই মামলার তদন্তের জন্য সিট গড়া হয়েছে। সোমবার সিট গঠনের জন্য জারি হয় নির্দেশিকা। দু’-এক দিনের মধ্যেই সিট গঠন হওয়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্য়াতেই মামলার তদন্তের জন্য গঠিত হল সিট।
অন্যদিকে, নিহত সামাউলের স্ত্রী রাজেদা খাতুন জানান, কে, কীভাবে তদন্ত করছে তা তাঁর জানা নেই। তদন্তের জন্য পুলিশ তাঁদের পরিবারের কাছে আসেনি। তিনি আরও জানান, তাঁরা এখনও কোনও পালটা অভিযোগ দায়ের করেননি। তাঁর দুই নাবালক ছেলেমেয়ে আছে। তাদের জন্য সাহায্য চান তিনি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও আশ্বাস মেলেনি। অন্য়দিকে মানবাধিকার কর্মীরা সামাউল হকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের আইনি সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আইনি পথে এগোনো নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি সামাউলের পরিবার।
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডলকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন সামাউল। অভিযোগ, গত ২৮ আগস্ট সুজিতকে অপহরণ করে সামশেরগঞ্জের পুরাতন ডাকবাংলা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়। পরে দেহ ফিডার ক্যানেলে বস্তাবন্দি অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়। ২৭ অক্টোবর খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সামাউল হকের। মৃতের পরিবারের দাবি, হেফাজত থেকে পালানোর গল্প সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাদের দাবি, এটি পরিকল্পিত এনকাউন্টার।
