যত দিন যাচ্ছে সম্পর্ক নিয়ে ততই যেন জটিলতা তৈরি হচ্ছে। নানা সমীক্ষা রিপোর্টেও উঠে আসছে আশঙ্কার কথা। কারণ, ক্রমশ নাকি কমছে দাম্পত্য সম্পর্কের আয়ু। সামান্য সমস্যাতেও সম্পর্ক পরিণতি পাচ্ছে বিচ্ছেদের। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে এবার কলেজেই শেখাবে দাম্পত্যের পাঠ।
বিষয়টা খোলসা করা যাক। গোয়া কলেজ অফ হোম সায়েন্স এই বিষয়ে একটি সার্টিফিকেট কোর্স চালু করতে চলেছে। সব ঠিকঠাক থাকলে সম্ভবত আগামী ডিসেম্বরে এই কোর্স চালু হবে। তাতে কলেজ পড়ুয়ারা অংশ নেবেন। বৈবাহিক সম্পর্কে থাকাকালীন একে অপরের মধ্যে বোঝাপড়া, মানিয়ে চলা সংক্রান্ত নানা পাঠ দেওয়া হবে। কেন আচমকা কলেজ স্তরে এমন কোর্স চালুর ভাবনাচিন্তা? আসলে সারা বিশ্বের মতো গোয়াতেও ক্রমশ হু হু করে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা। যা ভাবাচ্ছে প্রায় সকলকেই। আর সে কারণেই খোদ মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত এই ধরনের কোর্স চালুর কথা ঘোষণা করেছেন। বিয়ের আগে যথাযথ কাউন্সেলিংয়ের ফলে ভবিষ্যতের দম্পতিদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঠেকানো সম্ভব হবে বলেই মনে করছেন। সে কারণেই এই কোর্স চালুর ভাবনা।
জানা গিয়েছে, গত ২০০৭ সাল থেকে গোয়া কলেজে এই ধরনের বিষয় পড়ানো শুরু হয়েছে। তবে সার্টিফিকেট কোর্সটি নতুন। অধ্যাপক নাদিশা কোয়েলহো বলেন, “সম্পর্কের নানা জটিলতা এবং বিচ্ছেদের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে এই ধরনের কোর্স চালুর ভাবনাচিন্তা করা হয়েছে।” তথ্য বলছে, গত ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গোয়া আদালতে কমপক্ষে ৩ হাজারেরও বেশি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা রুজু হয়েছে। তার মধ্যে এমন বহু যুগলই রয়েছেন যাঁরা হয়তো একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। অধ্যাপকের মতে, বহুক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে মানসিকভাবে পরিণত না হওয়ার ফলে বহু অল্পবয়সি যুগল তড়িঘড়ি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বিয়ের আগে এই সার্টিফিকেট কোর্স করলে বৈবাহিক জীবনের জটিলতা তুলনামূলকভাবে লঘু বলে মনে হতে পারে বলেই আশা তাঁর।
