দেবীপক্ষের অপেক্ষা নয়, পিতৃপক্ষেই মায়ের আবাহন। প্রাচীন রীতি মেনে দুর্গাপুজোর সূচনা হল দুর্গাপুরের গোপালপুরের হাজরা বাড়িতে। পুজোয় দেড় কুইন্টাল আতপ চালের নৈবেদ্যর সঙ্গে ফল দেওয়া হয়। প্রতিমা নিরঞ্জন হয় ঠাকুরের নিজস্ব পুকুরে। ওই পুকুরে অন্য কোনও প্রতিমা নিরঞ্জন হয় না। প্রায় ১০৫ বছরের ঐতিহ্য আজও অমলিন।
কথিত আছে, প্রায় ১০৫ বছর আগে হাজরা পরিবারের এক সদস্য স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নে দেবী জানান, কাঁকসার বামনাবেড়া গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে পড়ে রয়েছে প্রতিমার কাঠামো। এরপর পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে সত্যিই কাঠামোটি দেখতে পান। সেই কাঠামো নিয়ে আসা হয় হাজরা বাড়িতে। তার উপর প্রতিমা নির্মাণ করেই শুরু হয় দুর্গাপুজো। সেই প্রাচীন রীতি মেনে আজও মহালয়ার আগেই শুরু হয় মায়ের বোধন। বোধনের দিন ভোরে মন্দিরে মোমবাতি জ্বালানো হয়। তারপর সকালে মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে চলে পুজোপাঠ। এরপর দুর্গা পুজোর সময় চার দিন ধরে চলে দেবীর আরাধনা। অষ্টমীর দিন দেড় কুইন্টাল আতপ চালের নৈবেদ্য এবং ফলমূল দেওয়া হয়। তারপরেই অষ্টমীর সন্ধিক্ষণে হয় চালকুমড়ো বলি। ভোগে থাকে ভাত, নানা রকমের ভাজা-সহ বিভিন্ন পদ। পরিবারের কোনও সদস্য পুজোর সময় রান্না করেন না। রান্না করেন বাঁকুড়ার ঠাকুররা। এক সময় পুজোর ১৫ দিন আগে থেকেই বাজত নহবত। সেই সুরে মুখর হয়ে উঠত গোটা এলাকা।

পুজোর চার দিন পরিবারের সকল সদস্য একত্রিত হন। হাজরা বাড়িতে ভিড় জমান বহু মানুষ। সকলের জন্য থাকে ভোগের ব্যবস্থা। দশমীর সন্ধিক্ষণে কাঁধে করে ঠাকুরের নিজস্ব পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আরাধনা। পরিবারের সদস্য সুপ্রতিক হাজরা বলেন, “পুরনো রীতি মেনেই আজও মায়ের আরাধনা হয়। তবে আমাদের মায়ের বোধন হয় পিতৃপক্ষেই। পুজোর চার দিন বহু মানুষের সমাগম হয়। ভোগ খাওয়ানো হয়।”
