সময়টা গত ২০২১ সাল। নন্দীগ্রাম থানা মোড়ের বিখ্যাত চায়ের দোকানদার সুজল মাইতি ওরফে খড়াদার দোকানে চা খেতে যান শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, “আমি এরপর মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তোমার দোকানে এসে চা খাব।” পাঁচ বছর পর সেই কথা রাখলেন তিনি। রবিবার ফের খড়াদার দোকানে চা খেলেন। চা খেয়ে খড়াদাকে বললেন, “কথা রাখলাম ভাই।”
শুভেন্দুর এই কথায় যেন মুহূর্তের জন্য আবেগে থমকে গেলেন খড়াদা। প্রায় ২৩ বছর ধরে নন্দীগ্রাম থানা মোড়ে চায়ের দোকান চালাচ্ছেন সুজল মাইতি। তাঁর লিকার চা এবং দুধ চায়ের আলাদা সুখ্যাতি রয়েছে। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের উত্তাল সময়ে এই ছোট্ট চায়ের দোকানে চা খেয়েছেন বহু পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। লালকৃষ্ণ আডবাণী, সুষমা স্বরাজ, রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শুভেন্দু অধিকারী – অনেকেই চা খেয়েছেন এই দোকানে।
তবে খড়াদার কাছে সবচেয়ে আলাদা হয়ে রয়েছে ২০২১ সালের সেই দিনটি। সেদিন চা খেয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আবার তাঁর দোকানে চা খাবেন। রাজনৈতিক পালাবদলের পর শুভেন্দুর দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হল। ‘প্রিয় মানুষ’টি কথা রাখায় আনন্দে আত্মহারা খড়াদা। তাঁর কথায়, “উনি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আমার কথা মনে রেখেছেন, এটা আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের। এমন কথা মনে রাখা আমার কাছে সৌভাগ্যের বিষয়।” আর সেই আনন্দ যেন একা নিজের মধ্যে আটকে রাখলেন না খড়াদা। শুভেন্দু তাঁর দোকানে চা খাওয়ার পর সারাদিন দোকানে আসা ক্রেতাদের বিনা পয়সায় চা খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। খড়াদার কাছে এ যেন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার দোকানে এসে চা খাওয়া নয়। এ যেন পাঁচ বছর আগে দেওয়া একটি কথা মনে রেখে ফিরে আসার আবেগঘন মুহূর্ত।
