Hashtagintro

সর্বসম্মতিক্রমে না হলে SIR-এ স্থগিতাদেশ! ফর্ম ৬ নিয়েও কমিশনকে ‘সুপ্রিম’ প্রশ্ন

সর্বসম্মতিক্রমে না হলে এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-এ স্থগিতাদেশ! সোমবার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের একটি মামলায় এমনটাই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ কোনও বদলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে যদি কোনও বদল হয়ে থাকে, তবে তা কার নির্দেশ করা হয়েছে, জানতে চেয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে (ECI) নোটিস দিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে তাদের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 

সোমবার এসআইআর, নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশের কুমার সংক্রান্ত মামলাগুলি ওঠে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে ভিত্তিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে। দাবি করা হয়, বাকি দুই কমিশনারের আপত্তিতে আমল না দিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ভোটারের নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬-এ বিশেষ বদল করা হয়। যা জানতেন না বাকি দু’জন। সংবাদপত্রের ওই প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে মামলা দায়ের হয় শীর্ষ আদালতে। মামলাগুলির সুরাহা না-হওয়া পর্যন্ত জ্ঞানেশকে সাসপেন্ডের আর্জিতেও একটি জনস্বার্থ মামলা রুজু হয়।

তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত কোনও নির্দেশ দিতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ১০০ শতাংশ ঠিকও হতে পারে, আবার আংশিক ঠিকও হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। আমরা এর ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ দিতে পারি না।” যদিও কেন্দ্র ও কমিশনকে জবাব তলব করার কথা জানায় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বক্তব্য, “আমরা অবশ্যই তাদের (কমিশনের) জবাব চাইব। যদি আমরা দেখি যে কোনও ক্ষেত্রে আইন মানা হয়নি, তাহলে আমরা তা বাতিল করে দিতে পারি।” প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের বক্তব্য, গোটা বিষয়টির সত্যাসত্য বিচার করে তবেই বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব, তার আগে নয়।  

ভোটার তালিকা থেকে মৃত, নিখোঁজ ও অবৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত হয় ‘এসআইআর’ কার্যক্রম। এর আওতায় ‘ফর্ম ৬’-এর মাধ্যমে নতুন ভোটার নিবন্ধনের অনলাইন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন একটি ‘আপত্তিকর’ অতিরিক্ত শর্ত দেয়। এর জেরেই তালিকা থেকে অসংখ্য ভোটার বাদ পড়েন বা ভোটাধিকার হারান। প্রশ্ন উঠছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া এমন শর্ত কীভাবে আরোপ করা যায়! উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, নতুন শর্ত চাপানো হয় জ্ঞানেশ কুমারের একক সিদ্ধান্তে। সহকারী দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি উড়িয়ে।

উল্লেখ্য, ‘ফর্ম ৬’ হল ‘ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০’-এর অধীনে নির্ধারিত একটি বিধিবদ্ধ ফর্ম। আইনি অনুমতি ছাড়া এর সংশোধন বা পরিবর্তন সম্ভবই নয়। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি অভিযোগ প্রমাণিত হলে পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যের গোটা ভোট প্রক্রিয়া বাতিল হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, যাবতীয় অভিযোগ প্রমাণ হলে তাও হতে পারে।

Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin India (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language