মাত্র ৫ মাসেই জেলা পরিষদ দখলে শাসকদল বিজেপির হ্যাটট্রিক! পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়ার পর এবার মালদহ জেলা পরিষদ বিজেপির দখলে এল। আর বিজেপিকে জেলা পরিষদ দখলে পুরোপুরি সাহায্য করলেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য। তাঁদের সাহায্যে জেলা পরিষদের সভাধিপতি হলেন বিজেপির দীপালি বালা। সহ সভাধিপতি হলেন মমতা তৃণমূলের লিপিকা ঘোষ। এর আগে নদিয়াতেও একই কায়দায় জেলা পরিষদ দখল করেছিল শাসকদল। এবার মালদহেও তারই প্রতিফলন। এনিয়ে মমতা তৃণমূলের কেউ মুখ না খুললেও, বিজেপির দাবি, মানুষ তৃণমূলের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়েই বিজেপিকে সমর্থন করছে। আর সিপিএমের প্রতিক্রিয়া, যারা দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করছে, তারাই আবার মালদহে বিজেপির হাত ধরে বোর্ড গড়ছে কেন, সেই জবাব দিতে হবে।
মালদহ জেলা পরিষদের নয়া বোর্ড গঠন নিয়ে সোমবার গভীর রাত থেকেই গোলমাল বাঁধছিল। কংগ্রেসকে সমর্থন দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জেলা পরিষদের ৩ সদস্য। তাঁরা সাংসদ ইশা খান চৌধুরী, প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নূরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা জানান। ওই সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইশা খান চৌধুরী নিজে তাঁদের নিয়ে সোমবার রাতে মালদহে ফিরছিলেন। কিন্তু মালদহ স্টেশনেই ওই তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এনিয়ে রাতেই সাংসদের সঙ্গে পুলিশের বচসা হয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, কংগ্রেসকে এভাবে আটকে রেখে জোর করে বিজেপি বোর্ড গড়েছে।

জেলা পরিষদে মোট আসন ৪৩টি। সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি গঠনের জন্য প্রয়োজন ২২ জন সদস্যের সমর্থন। মঙ্গলবার মমতা তৃণমূলের জনা ৬ সদস্য বিজেপিকে সমর্থন করেন। তাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায় বিজেপি। বিজেপির রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু, বিজেপি বিধায়ক তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক অম্লান ভাদুড়ি, দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় এবং উত্তর মালদহের সভাপতি প্রতাপ সিংদের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে দীপালি বালাকে সভাধিপতি নির্বাচিত করা হয়। সহ সভাধিপতি হন মমতা তৃণমূলের লিপিকা ঘোষ। বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে তৈরি হয় নতুন বোর্ড।

কিন্তু বরাবর বিজেপি বিরোধিতা করা মমতা তৃণমূল আচমকা মালদহ জেলা পরিষদে কেন শাসকদলকে সমর্থন দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষের প্রশ্ন, ‘‘যাঁরা ভোট-চোর বলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে দিল্লিতে মিছিল করছেন, তাঁদেরই দলের একাংশ স্থানীয় স্তরে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। এই দৃশ্যটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে দেখানো হোক এবং তাঁর জবাব চাওয়া হোক।” বিজেপিকে সমর্থন জানানো মমতা তৃণমূলের এক সদস্যের কথায়, ‘‘আমার ইচ্ছে হল, তাই সমর্থন দিয়েছি।”
