প্রয়াত কিংবন্তি অভিনেতা নানা পাটেকর। বৃহস্পতিবার গোয়ায় তাঁর নিজের বাড়িতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় অভিনেতাকে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর প্রয়াণে অভিনয় জগতে এক যুগের অবসান হল।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, গোয়ার ডোনা পাওলার বাসভবনে বৃহস্পতিবার ভোর ৫ টা বেজে ২০ মিনিট নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। অচেতন অবস্থায় তাঁর দেহ পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় এক বেসরকারি হাসপাতালে। তবে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। যদিও হাসপাতাল সূত্রে খবর, হৃদরোগে আক্রান্ত বুঝে ৪৫ মিনিট CPR দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল অভিনেতাকে, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। নানা পাটেকরের প্রয়াণে একটি ‘মেডিকো-লিগ্যাল কেস’ দায়ের হয়েছে। তাঁর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হবে।
নানার প্রয়াণে অভিনয় জগতে মহীরুহের পতন হল। ১৯৭৮ সালে মুজফফর আলির ‘গমন’ ছবি দিয়ে সিনেমার যাত্রা শুরু। তারপর থেকে একের পর এক ছবিতে অনবদ্য অভিনয় করে গিয়েছেন। তিনবার জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন এই অভিনেতা। ১৯৮৯ সালে ‘পরিন্দা’ ছবিতে ‘বেস্ট সাপোর্টিং অ্যাক্টর’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার পান, এরপর ক্রান্তি ছবির জন্য ‘বেস্ট অ্যাক্টর’ ক্যাটাগরিতে ১৯৯৯ সালে পুরস্কার পান। তৃতীয় বার পুরস্কার আসে ১৯৯৭ সালে। ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবির জন্য ‘বেস্ট অ্যাক্টর’ ক্যাটেগরিতে পুরস্কার পান তিনি। ‘অঙ্গার’, ‘পারিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অপহরণ’ ছবিতে অভিনয় করে চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছিলেন প্রয়াত অভিনেতা। এর পাশাপাশি অসংখ্য ছবি করেছেন তিনি। রাজু বানগেয়া জেন্টলম্যান, অপরহণ, এমনকী, ‘ওয়েলকাম’ ছবির সিরিজও মন জয় করেছে দর্শকদের।
২০১৩ সালে পান পদ্মশ্রী পুরস্কার। বলিউডে তাঁর পরিচিতি ছিল অতি সাধারণ মানের জীবন যাপনের জন্য। নিজের রোজগারের বেশিরভাগটাই তিনি বিভিন্ন সেবামূলক কাজে দান করতেন। তাঁর আচমকা প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ।
