মা হওয়ার পর রাত জাগতে হচ্ছে?
আমার রাত জাগার অভ্যাস আছে। ওটা নিয়ে অসুবিধা হচ্ছে না এখনও পর্যন্ত।
পুজো তো সম্পূর্ণ আলাদা। পরিকল্পনা কেমন?
না, আমি তেমন কোনও প্ল্যান করছি না। পুরোটা ওপরওয়ালার উপর। যা করবেন তেমন হবে। এখন দাসীর ভূমিকায় অভিনয় করছি। পুঁচকে জমিদার শুয়ে রয়েছে, সকলে দাসীবৃত্তি করছি (হাসি)।
জীবন কতটা পালটেছে?
মাতৃত্বে যেরকম সবার পাল্টায়। নতুন দায়িত্ব, নতুন অভিজ্ঞতা। আমার বন্ধুদের বক্তব্য, পৃথিবীর সমস্ত বিষয়ে আমার বক্তব্য থাকে। জীবনে প্রথম এমন একটা ঘটনা আমার জীবনে হয়েছে, যেটা নিয়ে আমি বাক্রুদ্ধ। সবাই এসে আমাকে জ্ঞান দিচ্ছে আর আমি চুপচাপ শুনছি।
যেহেতু গ্ল্যামার জগতের মধ্যে রয়েছেন, মা হওয়ার পরে চেহারা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়, যে কত দ্রুত শেপ-এ ফিরবেন? কিছুদিন আগে ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে …
মা হওয়ার আগে আমি এমন কোনও শেপ-এ ছিলাম না (হাসি)। কোনওদিন আমি ক্যাটরিনা কাইফও ছিলাম না, দীপিকা পাড়ুকোনও ছিলাম না। ফলে আমার শেপ-এ ফেরা নিয়ে মনে হয় না এত মানুষ ভাববেন। যদি কনসার্ন দেখায় তা হলে ভাবব এত মানুষের এত কৌতূহল!
আপনি মা হওয়ার পরেও আপনার আগের করা একটি মন্তব্য নিয়ে কথা উঠেছে যেখানে বলেছিলেন, ‘কোন দেশে মা হব!’ কিছু বলবেন?
কী বলব! যাঁরা বেশি কথা বলেছিলেন, তাঁরাই দেখছি এখন ফোনে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তার মানে পৃথিবীতে মানুষ এত তাড়াতাড়ি সব কিছু ভুলে যায়। আমার কিছু বক্তব্য নেই। বড় বড় ব্যক্তিত্বরাই নিজেদের কথায় টিকে থাকতে পারেন না। যঁারা দেশ চালনার ক্ষেত্রে একদম ওপরের পদে রয়েছেন তাঁরাই নিজেদের কথা প্রতি মুহূর্তে ফেলে দিচ্ছেন। সেখানে আমার মতো সাধারণ মানুষ কী বলছে তাতে কী আসে যায়।

পুজোয় আসছে ‘বহুরূপী : দ্য গোল্ডেন ডাকু’, তার প্রচার আপনি আগে অনেকটা করে ফেলেছেন। শুটিংয়ের সময় আপনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
হ্যাঁ, ঠিকই। সেই সময় একটু ভয়ে ভয়ে ছিলাম। তখন সদ্য আমরা জানতে পেরেছিলাম যে মা হতে চলেছি। শুটিংয়ের একটা চাপ থাকে। আর আমি শিবুদা-নন্দিতাদিকে প্রথমে বলিনি। একমাত্র যিশুদাকে বলেছিলাম। শোভন খুব ক্লোজ যিশুদার। আর ছবিতে যিশুদা আমার সহ-অভিনেতা। বলে রাখলে ফ্লোরের মধ্যে কিছুটা সুবিধে। যেহেতু আমার বেশির ভাগ সিনই যিশুদার সঙ্গে। সেই জন্য আমি আর শোভন যিশুদাকে বলে রেখেছিলাম। আর নন্দিতাদি-শিবুদাকে বোলপুরে শুটিংয়ে গিয়ে জানাই। তখন হাতে এক-দু’দিন আর শুটিং ছিল। সব মিলিয়ে ট্র্যাভেল করা নিয়ে একটু ভয়ে ছিলাম। কারণ ফার্স্ট ট্রাইমস্টারে ডাক্তাররা বলেন তিন মাসের আগে কাউকে না জানাতে। সাবধানে থাকতে। সেই কারণে কাউকে বলতে পারছিলাম না। আবার ভিতরে ভিতরে টেনশনেও ছিলাম। উতরে গিয়েছে, সেটাই ভালো।
‘উইন্ডোজ’-এর পঁচিশ বছরে আপনার ওদের সঙ্গে কাজ করা হল অবশেষে। এটার উদ্যোগ কীভাবে নেওয়া হয়েছিল?
ঠিকই। ‘বহুরূপী ওয়ান’ যখন হচ্ছিল তখন একবার কথা হয়েছিল। তারপর সেটা কোনও কারণে হয়নি। ছবিটা ভীষণ সফল হয়। ঋতাভরী আর আবিরদাকে অপূর্ব লেগেছিল। ওদের কেমিস্ট্রি সব মিলিয়ে। ‘বহুরূপী টু’ যখন হবে তার আগে শিবুদাই ফোন করে। নন্দিতাদি-শিবুদার সঙ্গে আমি তিনটে বিজ্ঞাপন করেছিলাম। সিনেমা কখনও করা হয়নি। এই মুহূর্তে যতগুলো সফল প্রোডাকশন হাউস আছে তার মধ্যে অন্যতম ‘উইন্ডোজ’। তার মধ্যে পুজোর ছবিও ‘বহুরূপী’ ফ্র্যাঞ্চাইজি। আমার চরিত্রটা পছন্দ হয়েছিল।

আপনি তো যিশু সেনগুপ্তর বিপরীতে।
হ্যাঁ, চরিত্রে একটা শেড রয়েছে। আমি আর যিশুদা কাপল হিসাবে রয়েছি। তবে আমার চরিত্রটা যতটা আছে তার একটা ইমপ্যাক্ট রয়েছে। ট্রেলার দেখে বোঝাই যাচ্ছে শিবুদা এবং যিশুদা হিরো। তার পরেও আমার চরিত্র এবং কৌশানীর চরিত্রে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে। আমি সব সময় চরিত্র নিয়ে ভাবি। কতটা স্ক্রিন প্রেজেন্স বা গান আছে কি না এগুলো আমি কোনওদিন স্ক্রিপ্ট শোনার সময় পরিচালককে জিজ্ঞেস করিনি। যতটুকু আমার চরিত্র তা মানুষের মনে দাগ কাটবে কি না সেটাই আমার প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বা শর্ত থাকে। সেখানে আমার এই চরিত্রটা ভালো লেগেছিল।
কৌশানী না সোহিনী এমন কোনও প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে?
দেখো, মানুষ তো সবসময় লড়াই করিয়ে দিতেই পছন্দ করে। সেটা মহিলা হলে তো আরওই ভালো। ভ্রাতৃত্ববোধ ছেলেদের মধ্যে যতটা থাকে, মেয়েদের ক্ষেত্রে তেমন ভাবনা থাকে না বাইরের লোকেদের দিক থেকে। আমি নিজে লড়িয়ে দেওয়ার মনোভাব থেকে বহুদূরে। আমার মনে হয়, কৌশানীও দূরে। ও ওর জায়গায় ঠিকঠাক রয়েছে, আমিও আমার জায়গায়। ইনসিকিওরিটি মানুষকে বেশি দূর নিয়ে যেতে পারে না।

সন্তানের নাম ঠিক হয়েছে?
বিভিন্ন নাম আমরা ভাবছি। এখনও ঠিক করে উঠতে পারিনি। ঠাকুরমা-ঠাকুরদা একটা নাম দিচ্ছেন। আমি দিচ্ছি। এখনও চূড়ান্ত নয়।
শোভন কি আগের থেকেও দায়িত্বশীল হয়েছেন?
শোভন প্রেগন্যান্সির সময় থেকেই দায়িত্বশীল হয়েছে। তবে এমনিতেও মানুষ হিসাবে শোভন দায়িত্বশীল। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুলভালও করে। কিন্তু ও বরাবর একটু কেয়ারিং। শোভনের সঙ্গে আমার প্রেমও এই কারণে হয়েছিল। ওর মধ্যে একটা কেয়ারিং ব্যাপার আছে। সেটা ওর বাবা-মাকে নিয়েও আছে। আমাকে নিয়েও আছে। যে কেয়ারিং হবে সে শুধু তার প্রেমিকাকে নিয়ে হবে না, চারপাশের মানুষজনকে নিয়েও হবে, সেইরকম।
কোয়েল মল্লিকের রাজ্যসভায় বিজেপি প্রার্থী হওয়া নিয়ে প্রচুর চর্চা চলছে। অভিনয় শিল্পের যুক্ত থেকে রাজনীতিতে কি যাওয়া উচিত। আপনার কী মনে হয়?
এটা আমি অনেক জায়গাতেই বলেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, রাজনীতি নিয়ে আমার কোনও পক্ষ থাকতেই পারে বা আদর্শ থাকতেই পারে। মানুষ তো ননপলিটিক্যাল হন না। যে হারে সবাই রাজনীতিতে চলে যাচ্ছেন, কেউ আর বাকি থাকল না। আমার বলায় আর কার কী যাবে-আসবে। কিছু বললেই দশ জনের গালিগালাজ আসতে পারে। তখন মনে হয় চুপ করে থাকি। এত কথা বলে কেন আমি খারাপ হতে যাব। ব্যক্তিগত ভাবে অভিনয় কেরিয়ারের এমন প্রাইম টাইমে রাজনীতিতে যাওয়া আমার পছন্দ নয়। এটা ব্যক্তিগত ভাবে আমার আদর্শের বিরোধী ।
