ডানপন্থী রাজনীতির লোক হলেও তাঁর আদর্শ বামনেত্রী! বরাবর তাঁকে সামনে রেখে রাজনীতির ময়দানে লড়েছেন বিজেপির শাখারভ সরকার। উপনির্বাচনে জিতে যিনি মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থেকে বিধানসভার সিঁড়িতে পা রাখছেন। শুক্রবার উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর শাখারভের এই ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু শপথ নিয়ে বিধায়কের কাজ শুরু করা। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবার রক্ষার ভার শাখারভের উপর। কিন্তু জয়ের পর শাখারভের মুখে শোনা গেল অন্য কথা। ভোটের ব্যবধান নিয়ে নবনির্বাচিত বিধায়ক বললেন, ‘‘আমার আদর্শ নন্দরানি ডল। তাঁর মার্জিন পেরতে পারিনি, তা সম্ভবও না।” অর্থাৎ কোনও গেরুয়াপন্থী নেতা নন, নির্বাচনী রাজনীতিতে শাখারভ লড়েছেন প্রবীণ সিপিএম নেত্রীকে সামনে রেখে।
নন্দরানি ডলের কেন শাখারভের আদর্শ, তা বুঝতে গেলে একটু পিছিয়ে যেতে হবে। বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম লড়াকু কমরেড বলে জঙ্গলমহলে একডাকে সবাই চেনেন প্রবীণ নন্দরানিকে। ১৯৬৭ সালে মেদিনীপুর জেলা থেকে যুক্তফ্রন্টের একমাত্র বিধায়ক হিসেবে ঘাটাল থেকে জিতেছিলেন তিনি। সেসময় বয়স কম থাকায় তা বদলেই ভোটে লড়েন। পরপর তিনবার ঘাটাল থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন জঙ্গলমহলের কন্যা নন্দরানি। পরবর্তীকালে সিপিএম আমলে তিনি কেশপুর থেকে ভোটে লড়েছেন। সেখানেও টানা তিনবার বিধায়ক হয়েছিলেন। পেয়েছিলেন মন্ত্রিত্বও। শেষবার ২০০১ সালে কেশপুর থেকে ভোটে দাঁড়ান তিনি। সেবার ১ লক্ষ ৮ হাজার ভোট জেতেন। সেটা তখনও পর্যন্ত ছিল সর্বোচ্চ ব্যবধান। তারপর সিপিএমের সঙ্গে সঙ্গে নন্দরানি ডলও রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন। এখন তিনি অসুস্থ, অথচ দল তাঁর খোঁজখবরও রাখে না বলে ঘনিষ্ঠ মহলে আক্ষেপ করেছেন নন্দরানি।

কাট টু ২০২৬। শুক্রবার রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর দেখা যায় শাখারভ ৭৫ হাজার ৬৯১ ভোটে জিতেছেন। তাতে খুশি শাখারভ বলেন, “অসাধারণ ফল হচ্ছে। আমার স্বপ্ন নন্দরানি ডল। নন্দরানি আমার আদর্শ। নবান্নের মাথার উপর দিয়ে গঙ্গার জল বইবে, মহাকরণে আকাশ ভেঙে পড়বে, কিন্তু নন্দরানি ডলকে এক্সিট করতে পারব না। এটা হতেই পারে না।”
