মানিকতলা ইএসআই হাসপাতালে প্রৌঢ়ার দেহ খুবলে খেল ইঁদুর। পরিবার সূত্রে খবর, ফিমেল সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন তিনি। এই ঘটনায় ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রৌঢ়ার গোটা মুখ, হাতে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন। চোখের পাতাও উধাও। ঠোঁটের একটি অংশ নেই। আঙ্গুলও খুবলে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের দাবি, ইঁদুরই খুবলে খেয়েছে তাঁর দেহ।
জানা গিয়েছে, ওই প্রৌঢ়ার নাম আল্পনা দে। তিনি হাওড়ার আন্দুলের বাসিন্দা। গত প্রায় ৬ বছর ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ভর্তি করা হয় মানিকতলা ইএসআই হাসপাতালে। পরিবারের দাবি, শুক্রবার সকালে হাসপাতালে পৌঁছনোর পর তাঁর জানতে পারেন ওই প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয়েছে। অথচ আগে তাঁদের হাসপাতালের তরফে জানানো হয়নি বলেই অভিযোগ। তাঁরা মৃতদেহের উপর থেকে কাপড় সরিয়ে তাজ্জব হয়ে যান। দেখেন গোটা মুখ, হাতে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন। চোখের পাতাও উধাও। ঠোঁটের একটি অংশ নেই। আঙ্গুলও খুবলে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের দাবি, ইঁদুরই খুবলে খেয়েছে তাঁর দেহ।
এই ঘটনাটি দেখে হতচকিত হয়ে যান তাঁর পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান তাঁরা। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, দেহ হয়তো খুবলে খেয়েছে ইঁদুর। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে রয়েছেন ১০ সদস্য। বলে রাখা ভালো, এই হাসপাতালে প্রতিদিন বহু রোগী চিকিৎসা করাতে আসেন। ভর্তিও থাকেন অনেকেই। রোগীর পরিবারের তরফে বারবারই হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রোগীদের থাকার জায়গা অত্যন্ত অপরিষ্কার। খাবারদাবার দেওয়ার ক্ষেত্রেও নানা অনিয়ম রয়েছে বলেই অভিযোগ। হাসপাতাল কর্মী এমনকী বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। তা নিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। তারই মাঝে প্রৌঢ়ার দেহ ইঁদুর খুবলে খাওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই জোর চাপানউতোর।
