Hashtagintro

ভারতমাতার ৩৫ ফুটের মূর্তি, দশমীতে রাবণ দহন, দুর্গাপুজোর চমক ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’

মণ্ডপের চূড়ায় ভারতমাতার মূর্তি, উচ্চতা ৩৫ ফুট। অন্দরে ‘আনন্দমঠ’ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, আবার সমকালীন ভারতের সেনানীদের বীরত্বগাথা। বিজয়া দশমীতে রাবণ দহন। ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষে দেশাত্মবোধের এই আয়োজন সোদপুরের এইচবি টাউনের বিজয়পুর সর্বজনীন দুর্গোৎসবে। পুজোর ৭৭ তম বর্ষে থিম ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ ও ‘বন্দে মাতরম’-এর দেড়শো বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটের মণ্ডপ।

প্লাইউড ও লোহার কাঠামোয় মেটাল, ফাইবার ও থার্মোকল দিয়ে তৈরি হচ্ছে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ভারতমাতার আদলে ৩৫ ফুটের প্রতিরূপ। তিনটি পর্যায়ে মণ্ডপে ফুটে উঠবে ‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস, ভারতমাতার তাৎপর্য এবং ‘মা যা ছিলেন, মা যা আছেন, মা যা হইবেন’ ভাবনায় ‘আনন্দমঠ’-এর কাহিনি। থাকছে ভবানন্দ, দেবী চৌধুরানী ও চিরাগ আলির মতো চরিত্র। সন্ন্যাসী-ফকির আন্দোলন থেকে স্বদেশি আন্দোলন, উঠে আসবে স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা অধ্যায়ও।

মণ্ডপের চূড়ায় ভারতমাতার মূর্তি, উচ্চতা ৩৫ ফুট।
আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে পুজো মণ্ডপ। নিজস্ব চিত্র

ইতিহাসের পাতা থেকে সমকালীন ভারত, দুই সময়ের বীরত্বই জায়গা পেয়েছে থিমে। পুলওয়ামা ও মুম্বই হামলা, মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণনের আত্মবলিদান, উরি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং অভিনন্দন বর্তমানের বীরত্বের কাহিনি তুলে ধরবেন উদ্যোক্তারা। পুজোর অন্যতম প্রধান কর্মকর্তা তথা বিজেপি নেতা জয় সাহার কথায়, “শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নয়, দেশের জন্য আত্মত্যাগ করা বর্তমান প্রজন্মের বীরদের কাহিনিও তুলে ধরছি। মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার পরিকল্পনায় সেই ভাবনাই প্রাধান্য পেয়েছে।” থিমের আধুনিক উপস্থাপনার বিপরীতে প্রতিমায় থাকছে সাবেকিয়ানা। “মণ্ডপের ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হলেও মা দুর্গার চিরাচরিত রূপ অক্ষুণ্ণ থাকছে। যে রূপ মনে ভাসে, সেই সাবেকি রূপেই পূজিতা হবেন দেবী,” জানান জয় সাহা।

মণ্ডপ নির্মাণের দায়িত্বে পার্থ মাইতি, প্রতিমায় কালাচাঁদ রুদ্রপাল এবং আলোকসজ্জায় প্রীতম সেনগুপ্ত। আলোর বিন্যাসেও ফুটে উঠবে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বীরত্বগাথা। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিজয়া দশমীতে থাকছে রাবণ দহন। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, অশুভ শক্তির বিনাশ ও বিজয়ের প্রতীক হিসেবেই এই আয়োজন। আগামী ১২ তারিখ পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। উদ্যোক্তাদের সূত্রে খবর, ১৪ তারিখ রাজ্যপালের আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে কোনও সফরসূচিই এখনও চূড়ান্ত নয়। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় সিসিটিভি, স্বেচ্ছাসেবক এবং প্রয়োজনে ড্রোনের ব্যবস্থা থাকছে। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার স্বাস্থ্য পরিষেবা, বস্ত্রদান, অঙ্কন প্রতিযোগিতা ও কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনার আয়োজনও রয়েছে।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language