Hashtagintro

বিলেতে বাঙালিয়ানা! লন্ডনের পুজোয় আকাশবাণীর শতবর্ষ উদযাপন

সম্প্রতি ভারতে বেতার সম্প্রচারের শতবর্ষ পূর্তি পালিত হল। একশো বছর। কম সময় নয়। বাঙালির সুখ-দুঃখে বিনোদনে সঙ্গে থেকেছে তার প্রিয় রেডিও। একটা জাতির সংস্কৃতিকে ধারণ করেছে। বহন করেছে। রক্ষণ করেছে। তাই বাঙালির কাছে রেডিওস্মৃতি এক বড় আবেগ বইকি! এমনকী বাঙালির শ্রেষ্ঠ দুর্গোৎসবের সঙ্গেও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে বাংলা বেতার। ১৯৩১ সালে আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রথম বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে সম্প্রচারিত হয় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। আর তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আজও অব্যাহত। সাতসমুদ্দুর পারের বাঙালিরা সেই চেনা সুরের টানেই এবার প্রবাসে জীবন্ত করে তুলছেন কলকাতার রেডিও-স্মৃতি।

লন্ডনের থেমস নদীর পাড়ে বসতে চলেছে এক টুকরো তিলোত্তমা। আয়োজনে ‘বেঙ্গল হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’। ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর ইলিং-এর গানার্সবারি পার্ক স্পোর্টস হাবে জমজমাট ‘লন্ডন শারদ উৎসব ২০২৬’। ১০ হাজার বর্গফুটের বিশাল প্রাঙ্গণ জুড়ে চলবে উৎসব। বলা হচ্ছে, এটিই নাকি ইউরোপের সবচেয়ে বড় দুর্গাপূজা। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে এই উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আকাশবাণী ভবন। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনের থেমস নদীর পাড়ে বসতে চলেছে এক টুকরো তিলোত্তমা। আয়োজনে ‘বেঙ্গল হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’। ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর ইলিং-এর গানার্সবারি পার্ক স্পোর্টস হাবে জমজমাট ‘লন্ডন শারদ উৎসব ২০২৬’। ১০ হাজার বর্গফুটের বিশাল প্রাঙ্গণ জুড়ে চলবে উৎসব। বলা হচ্ছে, এটিই নাকি ইউরোপের সবচেয়ে বড় দুর্গাপূজা। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে এই উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এবারের উৎসবের মূল ভাবনা বেশ অন্যরকম। আকাশবাণী কলকাতার সম্প্রচারের ১০০ বছর পূর্তিকে সম্মান জানাতেই এই আয়োজন। ১৯২৭ সালের ২৬ আগস্ট পথচলা শুরু হয়েছিল এই বেতার কেন্দ্রের। খবর, গান, গল্প আর নাটকের গ্রন্থিতে যা যুগে যুগে বাঙালিকে বেঁধে রেখেছে। প্রবাসে বসে মহালয়ার সকালে রেডিওর সেই পুরনো আমেজ ফিরিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য। প্রবীণরা খুঁজে পাবেন শৈশবের স্মৃতি। আর নতুন প্রজন্ম চিনবে নিজের শেকড়কে।

উৎসবের প্রাণকেন্দ্র ‘ঠাকুর দালান’। প্রথা মেনে সব নিয়ম পালন করা হবে সেখানে। বোধন থেকে শুরু করে সপ্তমী, মহাষ্টমী, কুমারী পূজা, সন্ধিপূজা, মহানবমী ও দশমী—কিছুই বাদ যাবে না। সঙ্গে থাকবে চন্দননগরের বিখ্যাত আলোর কারসাজি। বিলেতের বুকেও তৈরি হবে তিলোত্তমার রূপ-রস-গন্ধ।

গত পুজোর মুহূর্ত। নিজস্ব ছবি।

সাংস্কৃতিক মঞ্চ ‘রঙ্গমঞ্চ’-এ থাকবে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। ‘বিবিধ ভারতী’র আয়োজনে বসবে বাংলা গানের আসর। ‘গীতমালা’র মাধ্যমে মিলবে কলকাতা ও মুম্বাইয়ের সুর। ছোটদের জন্য থাকছে ‘ঠাকুরমার ঝুলি’। এছাড়া থাকছে বিএইচএফ কুইজ, অন্তাক্ষরী এবং ঢাক-ধুনুচির নাচ। দর্শকরা শুধু যে দেখেই ক্ষান্ত হবেন তা নয়, নাচ-গানে মেতেও উঠতে পারবেন। শেষ দিনের বড় আকর্ষণ আরজে মীরের সঙ্গে আড্ডা। চেনা ভঙ্গিতে আসর জমাবেন তিনি।

আড্ডা আর খাওয়া ছাড়া কি বাঙালির পুজো জমে? তাই থাকছে ‘বকুল তলা’। সেখানে মিলবে কলকাতার মুখরোচক স্ট্রিট ফুড। আর চপ-চায়ের সঙ্গে দেদার আড্ডার জন্য তৈরি হচ্ছে ‘মুক্ত অঙ্গন’। বাচ্চাদের জন্য থাকছে আলাদা ‘খেলার অঙ্গন’। প্রতিদিন ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে গরম গরম ভোগের প্রসাদ।

কমিউনিটির মনের কথা তুলে ধরতে প্রকাশ পাচ্ছে বিশেষ পুজো ম্যাগাজিন ‘পার্বণী’। গল্প, কবিতা আর স্মৃতিচারণায় ধরা থাকবে প্রবাস জীবনের অনুভূতি।

সংস্থার পক্ষে কৌশিক চ্যাটার্জি জানান, এবারের আয়োজন ইউরোপের বুকে সবচেয়ে বড় উদযাপন হতে চলেছে এই পুজো। লন্ডনের বুকে বাংলার সংস্কৃতিকে এক নতুন মাত্রায় তুলে ধরাই তাঁদের লক্ষ্য।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language