Hashtagintro

নারীশক্তির জয়! প্রথমবার টানা দু’বার অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে ভারত

কলকাতার মাটিতে একদিকে চরম হতাশা, অন্যদিকে আশার আলো। কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পরপর দু’টি ফিফা ফ্রেন্ডলিতে শোচনীয় হার স্বীকার করতে হয়েছে ভারতীয় মহিলা দলকে। তিনদিন আগে প্রথম ম্যাচে ০-৪ হেরেছিলেন সঙ্গীতা বাসফোররা। রবিবার দ্বিতীয় ম্যাচে ফলাফল ০-৮। এ হেন হতাশার দিনে ইতিহাস অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েদের (India U17 Women Football Team)।

‘দিদি’দের ব্যর্থতার দিনে অবশ্য ভারতীয় ফুটবলের মুখ উজ্জ্বল করল অনূর্ধ্ব-১৭ দল। মালয়েশিয়ার সেলাংয়ে এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে টানা তিন ম্যাচ জিতে মূলপর্বে জায়গা করে নিলেন প্রীতিকা বর্মনরা। রবিবার আয়োজক মালয়েশিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জন করল জোয়াকিম আলেকজান্ডারসনের দল। আগামী বছর চিনে রয়েছে এই প্রতিযোগিতা।

গোটা প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রমীলা ব্রিগেড ছিল দুরন্ত ফর্মে। তিন ম্যাচে ২০ গোল দিয়েছে তারা। হজম করেনি কোনও গোল। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে সিরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাকের বিরুদ্ধে জয় এসেছিল ১৪-০ ব্যবধানে। শেষ ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে চার গোল। এই সাফল্যের সঙ্গে জুড়ে গেল আরও একটি ইতিহাস। বয়সভিত্তিক হোক বা সিনিয়র, ভারতীয় মহিলা ফুটবলে কোনও দল এর আগে পরপর দু’টি এশিয়ান কাপের মূলপর্বে যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সেই নজির গড়ল ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ দল। গত মরশুমেও এই দল জোয়াকিমের প্রশিক্ষণেই এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলেছিল ভারত।

রবিবার মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করলেই গ্রুপের শীর্ষে থেকে মূলপর্বে পৌঁছে যেত ভারত। কিন্তু ভারতের মেয়েরা জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিলেন। প্রবল বৃষ্টিতে মাঠের বিভিন্ন জায়গায় জল জমে গিয়েছিল। তাই কিছুটা স্লো ফুটবল হয়। পাসের গতিও ব্যাহত হচ্ছিল। তবু শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তোলেন ভারতের ফুটবলাররা। প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণে মালয়েশিয়ার রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে ভারত। নীরা চানু লংজামের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধেই ন’টি কর্নার আদায় করে নেয় ভারত। শেষ পর্যন্ত ২৯ মিনিটে সিল্কি দেবী সোরোখাইবামের পাস থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করে ভারতকে এগিয়ে দেন রিদিমা দেবী চিংখামায়ুম। বিরতির আগে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন অনুষ্কা কুমারী। কিন্তু তাঁর শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন মালয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ঝাঁজ এতটুকুও কমেনি ভারতের। পরিবর্ত হিসাবে নামা প্রীতিকা বর্মনকে প্রথমে আটকে দেন মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক। পরে অবশ্য আর পারেননি। আলভার পাস থেকে অনুষ্কার বাড়ানো বল পেয়ে ডান পায়ের নিচু শটে ব্যবধান বাড়ান প্রীতিকা। এর পর অনুষ্কার পালা। কর্নার থেকে ফিরতি বলে দূরপাল্লার শটে ভারতের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। কোয়ালিফায়ারে এটা তাঁর অষ্টম গোল। ম্যাচের শেষ দিকে পরিবর্ত হিসাবে নামা নিধি চতুর্থ গোল করে মালয়েশিয়ার কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেন। ভারতের রক্ষণ ছিল চোখে পড়ার মতো। গোলরক্ষক মুন্নি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। সেন্টার-ব্যাক জুলান নোংমাইথেম ও অভিষ্টা বাসনেটের কথাও আলাদা ভাবে বলতে হয়।

Source: Sangbad Pratidin Sports (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Sports (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language