Hashtagintro

অনাথ আশ্রমের আড়ালে সাইবার অপরাধ! ১৯৫টি আর্থিক প্রতারণা মামলায় ধৃত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক

অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক একটি অনাথ আশ্রম চালান। সমাজসেবার মুখোশের আড়ালে তিনিই আবার সাইবার অপরাধের বড়সড় চাঁই। ধরা পড়তেই কাটোয়া থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করল ওই অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে। পুলিশ জানায় ধৃতের নাম অমল কুমার ঘোষ। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরের ডাকবাংলো রোডে। কেতুগ্রামের সোনানন্দী এলাকায় একটি অনাথ আশ্রম চালান তিনি।

পুলিশের দাবি, ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্য মিলে ১৯৫ টি আর্থিক প্রতারণার ঘটনায় সাইবার অপরাধের মামলায় অমল কুমার ঘোষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এই চক্রে কাটোয়ার চরপাতাইহাট এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর মণ্ডল নামে আরও এক ব্যক্তির জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এই দুজনের বিরুদ্ধে বুধবার একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে পুলিশ। তার ভিত্তিতে বুধবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় অমল কুমার ঘোষকে। এদিন বৃহস্পতিবার ধৃতকে কাটোয়া আদালতে তোলা হয়। ধৃতকে পাঁচ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, অমল কুমার ঘোষ নামে ওই ব্যক্তি কেতুগ্রামের ছোটপুরুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। চারবছর আগে অবসর নিয়েছেন। বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী,ছেলে ও পুত্রবধূ। সাম্প্রতিককালে কাটোয়া থানার সাইবার বিভাগে কয়েকটি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ আসে। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়।দেখা যায় আর্থিক বিনিয়োগ করে স্বল্প সময়ে মোটা টাকা লাভ পাইয়ে দেওয়া, চাকরির টোপ এবং ডিজিটাল গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো – ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে নেমে দেখা যায় যে অ্যাকাউন্ট নম্বরে জালিয়াতি করা টাকা জমা হয়েছে ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অমল কুমার ঘোষের। এরপর পর্দাফাঁস হয় পুলিশের কাছে। দেখা যায় শুধুমাত্র পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরনের জালিয়াতির ঘটনায় অমল কুমার ঘোষের যোগ রয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশ, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা,কেরালা, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ,পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু,বিহার, পন্ডিচেরি, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, অসম, গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, তেলেঙ্গানা থেকে শুরু করে হিমাচল প্রদেশ,জন্মু ও কাশ্মীর প্রভৃতি রাজ্যে সাইবার অপরাধের ঘটনায় অমল কুমার ঘোষের ব্যঙ্ক অ্যাকাউন্টে ওই জালিয়াতির টাকা জমা হওয়ার প্রমাণ পায় পুলিশ। এভাবে এখনও পর্যন্ত মোট ১৯৫ টি জালিয়াতির মামলায় অমল কুমার ঘোষের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এবং ওই চক্রে জড়িত দীপঙ্কর মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

পুলিশ জানতে পেরেছে অমল কুমার ঘোষের অ্যাকাউন্টটি প্রতারক চক্র ‘মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট’ হিসাবে পরিচালনা করত। যে অ্যাকাউন্ট সাধারণত প্রতারকরা জালিয়াতির জন্য ব্যবহার করে। ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে এই চক্রটির সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে। যদিও ধৃত অমল কুমার ঘোষের দাবি তিনি নির্দোষ। তাঁর এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আশ্রমের কাজে ব্যবহার হত। একাধিক ব্যক্তি অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ জালিয়াতি করতে পারে।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language