কার্গিল যুদ্ধের বীর সেনানী ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক অনন্য সামাজিক মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল সল্টলেক। রক্তদান, দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ, কৃতী পড়ুয়াদের আর্থিক বৃত্তি প্রদান থেকে শুরু করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালের বন্যাত্রাণে হাত বাড়িয়ে দেওয়া— একই প্ল্যাটফর্ম থেকে একাধিক মানবিক কর্মসূচির সফল রূপায়ণ দেখা গেল উন্নয়ন ভবনের প্রাঙ্গণে। কেএমডিএ সিভিল কনট্রাক্টরস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এবং কলকাতার কমান্ড হাসপাতালের সহযোগিতায় পুরো মেগা অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রধান সম্পাদক স্বামী বিশ্বাত্মানন্দ মহারাজ প্রদীপ জ্বালিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উদ্যোক্তাদের তরফ থেকে নেপালের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় মহারাজের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রক্তদাতা ও উপস্থিত মানুষের উদ্দেশ্যে উৎসাহব্যাঞ্জক বক্তব্য রাখেন ভারতীয় সেনার জওয়ানরাও। সমাজের আপামর মানুষকে নিয়মিত রক্তদানে এগিয়ে আসার জন্য বিশেষ আহ্বান জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন যাদবপুরের বিধায়িকা পাপিয়া অধিকারী। তাঁর হাত ধরেই সংবর্ধিত হয় এলাকার কৃতী পড়ুয়ারা। পাশাপাশি, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের হাতেও বিশেষ সহায়তা প্রদান করেন তিনি। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চঞ্চল মিত্র স্পষ্ট জানান, এই ধরনের যৌথ উদ্যোগ একদিকে যেমন কার্গিলের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে, তেমনই সমাজের পিছিয়ে পড়া ও আর্ত মানুষের প্রতি নাগরিক দায়িত্ব পালনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
সামাজিক দায়বদ্ধতার নিরিখে এদিনের আয়োজন ছিল বেশ নজরকাড়া। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ৮০০-র বেশি মানুষ রক্তদান করেন, যা উৎসবের মরশুমে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলোর ঘাটতি মেটাতে বিশেষ সাহায্য করবে। শুধু রক্তদান নয়, আসন্ন দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাত ধরে প্রায় ১৫ হাজার দুঃস্থ ও দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নতুন শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ৪৫০ জন মেধাবী পড়ুয়াকে আগামী এক বছর ধরে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে স্কলারশিপ দেওয়ার একটি বিশেষ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ২০ জন শিশুর চিকিৎসাতেও তুলে দেওয়া হয় আর্থিক সাহায্য।
সল্টলেকের এই মেগা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের জয়েন্ট সেক্রেটারি শঙ্কর দাস, অনুপম চক্রবর্তী, উপদেষ্টা কমিটির সদস্য তপন দত্ত এবং এসিপি নন্দদুলাল ঘোষ।
