সকাল থেকে অফিসের চেয়ারে বসে কাজ। একের পর এক মিটিং, কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘক্ষণ থাকা। বাড়ি ফিরে আবার মোবাইল, গেমিং বা ওটিটি-তে সিরিজ দেখা। এই রুটিনই কি আপনার? তা হলে সতর্ক হোন। দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকার অভ্যাসে বাড়তে পারে শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি। শুধু বয়স্ক বা শয্যাশায়ী ব্যক্তিরাই নন, বিপদের আশঙ্কা রয়েছে তরুণদেরও।
কেন বিপজ্জনক?
ডিপ ভেন থ্রম্বোসিস (ডিভিটি) হল শরীরের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা। সাধারণত পায়ের শিরায় এই সমস্যা দেখা যায়। জমাট বাঁধা রক্তের টুকরো ফুসফুসে পৌঁছলে হতে পারে পালমোনারি এম্বোলিজম, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
পায়ের পেশি রক্তকে হৃদ্যন্ত্রের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে পেশির নড়াচড়া কমে যায়। ফলে শিরায় রক্ত চলাচল ধীর হতে পারে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অফিসের কাজ হোক বা বিনোদন, একটানা বসে থাকার অভ্যাসকে হালকাভাবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন ভাসকুলার বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, গেমিং বা ওটিটি দেখার সময় টানা চার-পাঁচ ঘণ্টা বসে থাকার অভ্যাস বদলানো জরুরি। একই সতর্কতা প্রযোজ্য অফিসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন যাঁরা, তাঁদের ক্ষেত্রেও।
ধূমপানের সঙ্গে তুলনা কেন?
নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের বিপদ বোঝাতে প্রায়ই বলা হয়, ‘বসে থাকাই নতুন ধূমপান’। কিন্তু বসে থাকা ধূমপানের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর, এমন দাবির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকলেও দু’টিরই রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। যাঁদের পেশাগত কারণে দিনের একটা বড় অংশ অফিসের চেয়ারে বসে কাটাতে হয়, তাঁদের একটানা বসে থাকার সময় কমানো প্রয়োজন।
গবেষণায় কী তথ্য উঠে এল?
২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাটান, তাঁদের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি তুলনায় বেশি সময় চলাফেরা করেন এমন ব্যক্তিদের চেয়ে ২৪ শতাংশ বেশি। গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন বসে থাকার সময় এক ঘণ্টা বাড়লে এই ঝুঁকি প্রায় ২ শতাংশ বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে।
তবে শুধু দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেই যে রক্ত জমাট বাঁধবে, এমন নয়। স্থূলতা, ধূমপান, শরীরে জলের ঘাটতি, বংশগত রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বা আগে এই সমস্যা হওয়ার ইতিহাসও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কী করবেন?
নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি একটানা বসে থাকার সময় কমানো জরুরি। অফিসে কাজের ফাঁকে একটু হাঁটুন, দীর্ঘ বৈঠকের মাঝে সুযোগমতো বিরতি নিন এবং বসে থাকার সময় পায়ের পাতা ও গোড়ালি নাড়ান। কাজের চাপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় বসে থাকবেন না।
পায়ের এক দিকে অস্বাভাবিক ফোলা, ব্যথা বা লালচে ভাব দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আচমকা শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। মনে রাখুন, শরীরচর্চা যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা।
