আইএসএলের শুরুতেই হার। নর্থইস্টের কাছে ০-১ গোলে হেরে অভিযান শুরু করল মোহনবাগান। ম্যাচের একমাত্র গোল জিতিন এমএসের। তবে মোহনবাগান হারল নিজেদের ভুলেই। গুচ্ছের গোলনষ্টের খেসারত দিল সবুজ-মেরুন বাহিনী।
গুয়াহাটিতে মোহনবাগানের প্রথম একাদশে ছিলেন না মনবীর সিং। রিজার্ভে ছিলেন মিগুয়েলও। ডার্বির স্কোরার সমির জেলকোভিচ, ডেজন ড্রাজিচরা প্রথম একাদশে ছিলেন। জেমি ম্যাকলারেনের অনুপস্থিতিতে আক্রমণের মূল দায়িত্ব ছিল লি আরউইনের কাঁধে। ম্যাচের ঠিক ৮ মিনিটে তাঁর জোরালো শট নর্থইস্টের বার কাঁপিয়ে দিল। দুর্ভাগ্য যে জালে জড়াল না। সেটা গোল হয়ে গেলে হয়তো ম্যাচের ভাগ্য ওখানেই লেখা হয়ে যেত। আর ওই যে বলে না, সকাল দেখেই দিন কীরকম হবে বোঝা যায়! আরউইনের গোল হাতছাড়ার পর গোটা ম্যাচ জুড়ে চলল গোলনষ্টের প্রদর্শনী।
নর্থইস্টকেও আহামরি কিছু লাগেনি। কিন্তু গোটা ম্যাচ জুড়ে সবুজ-মেরুনের ছন্নছাড়া দশাই বেশি চোখে পড়ল। বল পজিশন থেকে গোলমুখী শট, সবেই এগিয়ে দিলেমপেরিসের দল। কিন্তু বক্সের মধ্যে ঢুকলেই সব লন্ডভন্ড। গোটা মাঠ জুড়ে তালমিলের স্পষ্ট অভাব। ডুরান্ড, শিল্ডের পর তিন নম্বর টুর্নামেন্ট। অথচ ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। ডার্বির হিরো সমির জেলকোভিচ আবার নিজের দুর্দশায় ফিরে এসেছেন। অভিষেক টেকচাম থেকে আপুইয়া, প্রত্যেকেই কিছুটা বেরঙিন। প্রথমার্ধের শেষে আরউইনের কাছে আরেকটা সুযোগ চলে এসেছিল। সেটাও কাজে লাগাতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধেও রাঙিয়ে দেওয়ার মতো খুব একটা কিছু করতে পারেননি। ৫৩ মিনিটে ফের মিস আরউইনের। একটা সেভ করেন নর্থইস্টের গোলকিপার গুরমীত সিং। দ্বিতীয়টি কার্যত ফাঁকা গোলে মিস। মিসের তালিকায় নাম লেখালেন বদলি হিসেবে নামা মিগুয়েলও। ৮৮ মিনিটে ফাঁকা গোল ছিল সুহেলের সামনে। লিস্টন কোলাসোর ক্রস বুঝে ঠিক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি মারলেন বারপোস্টে।
আর এত গোলনষ্টের খেসারত দিতেই হত! গোটা ম্যাচে সেভাবে ছাপই ফেলতে পারেননি আলাদিন। শেষ মুহূর্তে জিতিন এমএসের সঙ্গে জাদুপ্রদীপ জ্বালিয়ে দিলেন। ৯২ মিনিটে আলাদিনের দূরপাল্লার শট শরীর ছুড়ে বাঁচান বিশাল কাইথ। ফিরতি বল জালে জড়িয়ে দিলেন জিতিন। কোথায় তখন আলবার্তোরা। গোটা দল থমকে গিয়েছে। শেষ মুহূর্তের গোলে নর্থইস্টের কাছে হেরে কলকাতায় ফিরবে মোহনবাগান।
