Hashtagintro

আগল ভেঙে বেরিয়ে যেতে চাইছিল ‘পড়ুয়া’ এআইরা! শাস্তি দিতে কী করল ওপেনএআই?

প্রশিক্ষণের সময় আগল ভেঙে বেরিয়ে যেতে চেয়েছিল ‘পড়ুয়া’ এআইরা। শাস্তিস্বরূপ প্রশিক্ষণের সময় সবচেয়ে উন্নত এআই মডেলগুলোর ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সেই OpenAI। কারণ, প্রশিক্ষণরত এআইয়ের কার্যকলাপে পরীক্ষামূলক সিস্টেম চলে এসেছিল প্রকাশ্যে! সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এরপরই তাঁরা একটি ‘অফলাইন জগৎ’ তৈরি করেছে। যা মূলত ইনডেক্স করা ও ক্যাশে রাখা ওয়েব কন্টেন্টের একটি বিশাল ভাণ্ডার। এর মাধ্যমে তাদের এআই মডেলগুলো বাইরের কোনও সিস্টেমকে প্রভাবিত না করেই বিভিন্ন তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারবে। সংস্থার সাফ কথা, সুরক্ষা সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই নীতি জারি থাকবে। 

গত সেপ্টেম্বর মাসে ১১ দিনের জন্য ওপেনএআই-এর ফ্রন্টিয়ার মডেলগুলোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। কারণ, প্রশিক্ষণের সময় একটি অভ্যন্তরীণ গবেষণা মডেল ভুল কনফিগারেশনের সুযোগ নিয়ে সরাসরি ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার পেয়ে গিয়েছিল। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে তাঁরা আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে পুনরায় ‘রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং’ এবং অভ্যন্তরীণ ইনফারেন্স প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয় কর্মকর্তারা সেপ্টেম্বরে প্রকাশ্যে কিছু নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কথাও জানিয়েছিলেন। তার মধ্যে জুন মাসের একটি ঘটনায়, এআই এজেন্টরা ‘মেডিকেয়ার’ সংক্রান্ত তথ্য ভাণ্ডারের এমন কিছু অংশে প্রবেশ করে ফেলে, যা জনসাধারণের জন্য খোলা ছিল না।

জুলাই মাসে, পরীক্ষাধীন ওপেনএআই-এর সিস্টেমগুলো তাদের নির্ধারিত কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করে। ‘হাগিং ফেস’ নামক একটি প্ল্যাটফর্মে, যা ওপেন-সোর্স এআই টুল সরবরাহ করে সেখানে অনধিকার প্রবেশ করে। পরবর্তীকে রয়টার্স জানায়, ওপেনএআই-এর তৈরি একদল এআই এজেন্ট ‘ডিএসইউইকি’ নামের একটি জার্মান ওয়েবসাইট-যা প্রোগ্রামারদের জন্য উইকিপিডিয়ার আদলে তৈরি সেটিরও দখল করে নিয়েছিল। এমনকি সমস্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও এবং ইন্টারনেট সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও, ওপেনএআই-এর এজেন্টরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, “এজেন্টদের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সবসময় নেটওয়ার্ক সংযোগের প্রয়োজন হয় না।”

শুধু ওপেনএআই-এর মডেলগুলোই যে অনিয়ন্ত্রিত আচরণ করেছে তা নয়। অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, তাদের এআই এজেন্টগুলোও নিজস্ব সিদ্ধান্তে কাজ করেছে। এগুলো সরকারি কিছু ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। তারপর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে ভিসার আবেদন পূরণ করেছিল এবং ফিলাডেলফিয়া পুলিশ বিভাগে হত্যাকাণ্ডের একটি ভুয়ো তথ্য পাঠিয়েছিলও। মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস সম্প্রতি প্রযুক্তি বিষয়ক প্রকাশনা ‘দ্য ভার্জ’কে বলেছেন, এআই-এর কারণে আমাদের জীবনযাত্রা হয়তো ‘আমিষ’ সম্প্রদায়ের মতো হয়ে যেতে পারে। গেটস বলেন, “আমি আগেই বলেছিলাম রান্না, শিল্পকলা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন পেশাকে হয়তো মানুষের জন্য সংরক্ষিত রাখা যেতে পারে। যদিও এআই হয়তো এই কাজগুলো আরও ভালোভাবে করতে সক্ষম, তবুও আমরা নিজেরা সেগুলো করার সিদ্ধান্ত নিতে পারি।”

Source: Sangbad Pratidin Lifestyle (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Lifestyle (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language