চোরবাগান বিপর্যয়ে নাম না করে এবার পূর্বতন সরকারকেই বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার ভবানী ভবন থেকে মুখ্যমন্ত্রী বিপর্যয়ের জন্য কাঠগড়ায় তুললেন অস্থায়ী হোমগার্ডদের। তিনি জানান, আচমকা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাঁরা দড়ি ছেড়ে ভিতরে চলে যান, ফলে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যার পরিণতি, ১৯ টা প্রাণের বলি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আবর্জনা বইছি, তবে আর নয়।” শুভেন্দুর হুঙ্কার, “অ্যাকশন হবেই।”
শনিবার প্রথম মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় তিলোত্তমার বুকে ঘটেছে ভয়ংকর কাণ্ড। একদিকে বৃষ্টি, তার উপরে উপচে পড়া ভিড়, জোড়াফলায় শেষ ১৯ টা তরতাজা প্রাণ। রবিবার ভবানীভবন থেকে এই ঘটনার দায় কার্যত মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অস্থায়ী হোমগার্ডদের উপরই চাপালেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন অস্থায়ী হোমগার্ডরা। হঠাৎই বৃষ্টি নামে। শুনছি, ভিজে যাচ্ছিলেন বলে তাঁরা নাকি দড়ি ছেড়ে ভিতরে চলে গিয়েছিলেন। তাতেই বিশৃঙ্খলা।” এদিন শুভেন্দু খানিকটা হতাশা প্রকাশ করেই বললেন, “আবর্জনা বয়ে চলেছি। এবার পদক্ষেপ হবে।” ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, তৃণমূল আমলে এই হোমগার্ডদের নিয়োগ করা হয়েছিল। সেকথাই বোঝাতে চেয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, চোরবাগান বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে শহরের বড় পুজো মণ্ডপে ভিআইপি পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য। সবাইকে একটা লাইন দিয়েই ঢুকতে হবে। ভবানীভবনে বৈঠকের পর বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর কথায়, দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে যা করার করা হচ্ছে। এদিকে এই ঘটনার পরেই বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর। আগামী ২৬ তারিখ রাজ্যের উদ্যোগে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান রয়েছে। সেই অনুষ্ঠান একেবারে আড়ম্বরবর্জিত হবে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, সমস্ত কমিটিকে আগামী ২৬ তারিখ ডাকা হচ্ছে। সেখানে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পাশাপাশি আহতদের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হবে।
