হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ নয়। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকা পেয়েছেন প্রত্যেক ‘যোগ্য’রা। তথ্য দিয়ে নির্বাচনের সময় তৃণমূলের মিথ্যা প্রচারকে আবারও বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের বলেছিল না, বিজেপি ক্ষমতায় আসলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা মিলবে না। আমরা হিন্দু-মুসলিম বেছে দিইনি। যাঁরা ঘর করেছেন তাঁদের সকলকে টাকা দিয়েছি।” তবে যাঁরা বেআইনি উপায়ে যোজনায় নাম তুলেছেন তাঁদের সকলের থেকে টাকা আদায় করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, নাবালিকা বিবাহ রোধে জনসাধারণের সাহায্য চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার মালদহের ভূতনিতে বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে মোট ২৪২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন। সেখানেই তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতি ও মিথ্যা প্রচারকে এক হাত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “গত সরকার ৬৭ হাজার ১১৩ জনকে প্রথম কিস্তির টাকা দিয়েছিল। আমরা ভেরিফিকেশনের পর ৫৬ হাজার ৭৬০টি পরিবারকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দিয়েছি। আপনাদের বলা হয়েছিল না, বিজেপি ক্ষমতায় আসলে আবাসের টাকা মিলবে না। আমরা কোনও ভোদাভেদ করিনি। যাঁরা ঘর তৈরি করেছেন তাঁদের দিয়েছি।”
পাশাপাশি যাঁরা অন্য উপায়ে ঘর পেয়েছেন তাঁদের টাকা ফেরত দিতে হবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘টাকা ফেরত দিতে হবে। জেলেও যেতে হবে। ভাববেন না পাঁচ মাস পেরিয়ে গিয়েছি, ভুলে গিয়েছি। জেলের ভিতরে ঢোকাব।” মালদহ জেলাজুড়ে আরও ৩ লক্ষ ১৪ হাজার ৬০২টি নতুন ঘর হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এরপর তিনি মালদহবাসীর কাছে নাবালিকা বিবাহ রোধের আবেদন জানান। বলেন, “আপনাদের থেকে দু’টি জিনিস চাইব। ১৮ বছরের আগে কোনও বোনের বিয়ে দেবেন না তো? ১২-১৪ বছরের মেয়েগুলো মা হচ্ছে। ভয়ংকর পরিস্থিতি। সমাজসংস্কার করতে হবে। ধর্ম পরিবর্তন করবেন না।” এরপরই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মালদহে আমার আমলে ধর্ম পরিবর্তন হলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।”
