ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়ার মেগা ইভেন্ট। চোখ ধাঁধানো লাইট এন্ড সাউন্ড শো, ড্রোন আলোয় রাতের আকাশে দুর্গতিনাশিনী দুর্গাকে মুগ্ধ হয়ে দেখেছে তিলোত্তমা। আসর মাতিয়েছেন একের পর এক শিল্পীরা। ইডেনে লোক-সংস্কৃতির শোকেস, নাচ-গান, আতসবাজি অন্য মাত্রা দিয়েছে ইডেনের আগমনী অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি মহালয়ার অনুষ্ঠানে আরও এক নজিরের সাক্ষী থেকেছে কলকাতা। একসঙ্গে ৩ হাজার ঢাকির উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান জায়গা করে নিল গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
ইডেন গার্ডেনন্সে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও সংলগ্ন গোটা এলাকাজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সংস্কৃতিকে সামনে রেখে সেজে উঠেছিল রেড রোড। সেখান থেকেই হেঁটে ইডেন গার্ডেন্সে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সহ একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।
মহালয়ায় ইডেন গার্ডেন্স যেন ছিল চমকের আখরা। বিশেষ আকর্ষণগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল ৩ হাজার ঢাকির সমবেত বাদ্য়ি। সেই সঙ্গে হাজারেরও বেশি নৃত্যশিল্পীর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। মহালয়ায় ইডেনের অনুষ্ঠানে যা নজির গড়েছে। ৩০০০ হাজার ঢাকির উপস্থিতিতে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেল কলকাতা। ইডেনে অনুষ্ঠানের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে সেই শংসাপত্র তুলে দেন মুখ্যসচিব। সঙ্গে ছিলেন কার্তিক মহারাজও।
এবারের পুজো প্রতিবারের থেকে অনেকটা আলাদা। পালাবদলের বঙ্গে মহালয়ায় মেগা ইভেন্টের আয়োজন করেছে সরকার। শনিবার বিকেলে নির্ধারিত সময়ে ঢাকের বোল, আদিবাসী নাচ ও লগ্নজিতা চক্রবর্তীর গানের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান, ছিলেন ইমন চক্রবর্তীও। ইডেনে ছিলেন জুন মালিয়া, স্বপন দাশগুপ্ত, সুখেন্দুশেখর রায়-সহ অন্যান্যরা। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একমঞ্চে ছিলেন তসলিমা নাসরিনও। বিজেপি সরকারের তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শাসনামলে বঙ্গে এটাই প্রথম দুর্গাপুজো। স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ছিল প্রচুর। এদিনের অনুষ্ঠান সেই প্রত্যাশাকেই যেন পূরণ করে দিল। সেই সঙ্গে কলকাতার মুকুটে নয়া পালক জুড়ে দিল মহালয়ার এই বিশেষ দুর্গাপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
