Hashtagintro

ইরাকি বিশ্বকাপারকে নিয়ে ভাবছেন না হাবাস, আল শোর্তার বিরুদ্ধে জয়ের হুঙ্কার ইস্টবেঙ্গল কোচের

একজন-দু’জন নয়। সাত-সাতজন বিদেশি নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলতে এসেছে ইরাকের আল-শোর্তা।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন আবার বিশ্বকাপারও রয়েছেন। গোলকিপার জালাল। যিনি সদ্য আমেরিকা বিশ্বকাপে ইরাকের জার্সিতে দু’টি ম্যাচও খেলেছেন নরওয়ে আর সেনেগালের বিরুদ্ধে। এহেন গোলকিপার যে দলে থাকে, ম্যাচটা ইস্টবেঙ্গলের জন্য কতটা কঠিন হতে পারে সহজেই অনুমেয়।

এই এএফসি এবং আইএসএলের দিকে তাকিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস শিল্ড ফাইনালে খেলাননি দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আনোয়ারকে। স্বাভাবিকভাবেই মঙ্গলবার আল-শোর্তার বিরুদ্ধে আনোয়ারকে খেলাবেন, এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আল শোর্তা সাতজন বিদেশি নিয়ে এসেছে মানেই, হাবাসও তাঁর হাতে থাকা ৬ জন বিদেশি ফুটবলারকে ইরাকের দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামিয়ে দেবেন। এক্ষেত্রে তাঁর স্পষ্ট যুক্তি, “স্বদেশি-বিদেশি বুঝি না। আমার হাতে থাকা সেরা ফুটবলারদেরই ম্যাচে খেলাব। যদি কোনও পজিশনে যোগ্য ভারতীয় ফুটবলার থাকে, তাহলে তাকেই খেলাব।” ইস্টবেঙ্গল কোচের কথা শুনে যা মনে হচ্ছে, তাতে ইকোনোমিডিসের শুরু থেকে মাঠে নামার সম্ভাবনা খুবই কম।

আল-শোর্তার কোচ স্যামি ব্র্যাবেলসি কলকাতায় ম্যাচ খেলতে আসার আগে বেশ কয়েকটি ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের ক্লিপিংস দেখে এসেছেন। প্রত্যাশিতভাবে হাবাসও আল-শোর্তার খেলা দেখেছেন। আর তা দেখে ইস্টবেঙ্গল কোচের মনে হয়েছে, “গ্রুপে এরাই এখনও পর্যন্ত কঠিন প্রতিপক্ষ।” আর কেনই বা মনে হবে না? প্রথম ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ২-২ গোলে ড্র করে এসেছে জর্ডনের আল হুসেইনের সঙ্গে। সেখানে আল-শোর্তা প্রথম ম্যাচে হারিয়েছে ওমানের আল সিব-কে। ফলে গ্রুপের শীর্ষ দল নির্ধারণের জন্য মঙ্গলবারে যুবভারতীর ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আল-শোর্তার কোচ ইস্টবেঙ্গলের বেশ কয়েকটি খেলা দেখার নিরিখে বলেন, “বিভিন্ন পজিশনে ইস্টবেঙ্গলের বেশ কয়েকজন ভালো ফুটবলার রয়েছে। বিশেষ করে ওদের তিনজন ফুটবলার বেশ ভাল।” যদিও ইস্টবেঙ্গলের কোন তিনজন, তাঁদের নাম উল্লেখ করেননি। ত্রাবেলসি মুচকি হেসে বললেন, “ম্যাচের আগে নিশ্চিতভাবেই বলব না. ইস্টবেঙ্গল কোন তিনজন ফুটবলার, আমার নজরে রয়েছে। তবে ওদের প্রতিটি পজিশনেই বেশ ভাল ফুটবলার রয়েছে।” এই জায়গায় হাবাসও একইরকম। “ওদের বিরুদ্ধে খেলার আগে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। অবশ্যই ভালো দল। কিন্তু তার মানে এই নয়, ওদের দলে পৃথিবীর সেরা স্ট্রাইকার রয়েছে। ম্যাচটা জিততে পারলে নক আউটে দিকে আরও একটু এগিয়ে যাব।” আল-শোর্তা দলের সঙ্গে সাংবাদিকদের সামনে এসেছিলেন ফুটবলার বাসাম। যিনি অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ইরাকের হয়ে এই যুবভারতীতে খেলে গিয়েছেন। ফলে এই পরিবেশ তাঁর জন্য নতুন নয়। এদিন বলছিলেন, “আশা করছি, সব ঠিকঠাক থাকলে ম্যাচটা জিতব।”

ভারতে জাতীয় লিগ শুরু হয়ে গেলেও, এএফসির জন্য এখনও মাঠে নামেনি ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ইরাকের জাতীয় লিগে ইতিমধ্যেই ৯টা ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে ইরাকের দলটির। ত্রাবেলসির ধারণা, এই ৯টি ম্যাচ খেলে সুবিধের কিছু হয়নি। কারণ, খুব কম সময়ের মধ্যে ঘরোয়া লিগে খেলার দরুণ বেশ কিছু ফুটবলার চোটের তালিকায় রয়েছে। জালাল ছাড়াও এই দলে আরও দু’জন ইরাকের জাতীয় ফুটবলার রয়েছে। কিন্তু চোটের জন্য আসেননি। তবে ইস্টবেঙ্গলকে ধন্যবাদ দিয়ে জানালেন, তিন দিন আগে কলকাতায় এসে প্রস্তুতির সুবিধা পাওয়ার জন্য। ইস্টবেঙ্গলের সব আছে। কিন্তু স্ট্রাইকার কোথায়? এডমুন্ড যেভাবে গোল নষ্ট করছেন, তারপর তাঁকে ধরে ম্যাচ বের হওয়ার তো কোনও নিশ্চয়তা নেই। লুকাস আর লোবা মাত্র দু’টো ম্যাচ খেলেছেন। যেখানে আবার পুরো সময় খেলার সুযোগও পাননি। ফলে ফরোয়ার্ড লাইনে সমস্যা রয়েছে। কিন্তু কোচ হাবাস মচকাবেন। কিন্তু ভাঙবেন না। বললেন, “এটা ঠিক যে ওরা সেভাবে ম্যাচ টাইম পায়নি। খেলতে খেলতেই তৈরি হবে। আমি কোনও সমস্যা দেখছি না। আর যে সমস্যাগুলি রযেছে, সেগুলি নিশ্চয়ই প্রকাশ্যে বলব না।”

Source: Sangbad Pratidin Special (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Special (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language