Hashtagintro

উঠে যাবে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি? বাবার পথে রাজনৈতিক অবসর ঘোষণা ছেলে রবিনেরও

আগামী শুক্রবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলঘোষণা! তার আগেই কার্যত হার মেনে নিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। এমনকী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন বলেও ঘোষণা নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধানের। তাঁর অভিযোগ, মঙ্গলবার রেজিনগরে প্রহসনের ভোট হয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে চোখে জল নিয়েই হুমায়ুন জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী যত দিন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, তত দিন তিনি বিধানসভায় যাবেন না। এহেন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন তাঁর পুত্র তথা রেজিনগর উপনির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ রবিনও। বাবা-ছেলের রাজনীতির ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোয় এখন প্রশ্নের মুখে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির ভবিষ্যৎ! যদিও এখনই এই বিষয়ে ভাবতে নারাজ হুমায়ুন-পুত্র।

রবিনের কথায়, আমি পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারব না। যেদিন মানুষ তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, সেদিন আবার রাজনীতিতে ফেরার কথা ভাবব।

রেজিনগর উপনির্বাচনে এবার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন রবিন। বাবার সুরে মঙ্গলবার ভোট লুটের অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকী আগামী ৯ তারিখ, অর্থাৎ ফলাফল ঘোষণার দিন গণনা কেন্দ্রে যাবেন না বলেও জানিয়েছেন রবিন। এরমধ্যেই এদিন সকালে সুর চড়ান বাবা হুমায়ুন। এমনকী রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়ার কথাও বলেন। এরপরেই রবিন বলেন, “আমি আর এই নোংরা রাজনীতির অংশ হয়ে থাকতে চাই না। তবে বাবার ঘোষণার সঙ্গে আমার এই সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক নেই। মঙ্গলবার থেকেই আমি বারবার বলছি, গতকাল যেভাবে রেজিনগরে ভোট হয়েছে তা কোনও সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ নয়।”

তবে বাবা এবং ছেলের একসঙ্গে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রশ্নের মুখে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির ভবিষ্যৎ! তাহলে অস্বস্তি হারাবে হুমায়ুনের তৈরি এই দল? ইতিমধ্যে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে খোদ দলের অন্দরেই। তবে এখনই এই বিষয়ে ভাবতে রাজি নন রবিন। তিনি বলেন, “দলের ভবিষ্যৎ কী হবে তা ভবিষ্যৎ বলবে। তবে ইতিমধ্যেই দলের কর্মীদের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলেছি। সমস্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতাদর্শগত লড়াই করা সম্ভব, কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে দিনের পর দিন যুদ্ধ করে টিকে থাকা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “সাধারণ মানুষ বিপদে পড়লে পুলিশের কাছেই যাবে। কিন্তু সেই পুলিশ যদি ভোট দিতে যাওয়ার জন্য মানুষকে চড়-থাপ্পড় মারে, তাহলে মানুষ কোথায় যাবে? আজ আমার সঙ্গে যা হচ্ছে, অন্যরা বসে দেখছে, ভবিষ্যতে অন্যদের সঙ্গেও একই জিনিস হবে। এর ফলে সমাজ মেরুদণ্ড হারাবে।”

বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রবিন। আগে যদিও পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হিসাবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। আগামিদিনে তাহলে নিজের দপ্তরে যাবেন রবিন? সেই প্রসঙ্গে হুমায়ুন পুত্র বলেন, ”আমি জানি না ভবিষ্যতে আর কোনওদিন পঞ্চায়েত সমিতির কোনও কাজে অংশগ্রহণ করব কি না। আমি এখন নোংরা রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে চাই।” তাঁর কথায়, আমি পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারব না। যেদিন মানুষ তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, সেদিন আবার রাজনীতিতে ফেরার কথা ভাবব। আমি এর আগে সক্রিয়ভাবে সামনে এসে রাজনীতি করিনি। বাবার ওপর অনেক মানুষ ভরসা রাখে, সেই ভরসার মূল্য দিতেই প্রার্থী হয়েছিলাম। আমরা খুব ছোট দল, আমাদের টার্গেট করলে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আমার রাজনৈতিক স্বার্থে আমি এলাকাবাসীকে বিপদে ফেলতে পারি না। এখন পরিবারকে সময় দেব, আমার ছোট্ট মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাব।

Source: Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Technology & Auto (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language