Hashtagintro

উৎসবেও ভাঙা-গড়ার লড়াই, বুকস্টল নিয়ে হাজার ঝামেলার মাঝেই রেকর্ড বিক্রি সিপিএমের

গোটা পুজো বা শারদোৎসবে ভাঙাগড়ায় ব্যস্ত থাকতে হলো কমরেডকুলের নেতাদের। পুজোর পাঁচটি দিন প্রতি মুহূর্তেই আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের সদর দপ্তরে দিকে দিকে বুকস্টল ভাঙার খবর আসতে থাকে। কিন্তু এই চাপেও মাথানত নয়, বরং বারবার বার্তা দেওয়া হয়, মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙা স্টল গড়তে হবে। হাল না ছেড়ে সেই লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন পার্টি কর্মীরা। দু-একটি জায়গা বাদ দিলে প্রায় সর্বত্রই নতুন করে গড়ে তোলা হয় বই স্টল। আর তাতেই রেকর্ড বই বিক্রি হয়েছে এবছর। এই দাবি করেও নেতা, কর্মীরা জানাচ্ছেন, দু-একদিনে বিক্রির সঠিক হিসেব হাতে পাওয়া যাবে।

বুধবারও সন্তোষপুর এলাকায় স্টলে গিয়ে বই বিক্রি করেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। কসবার বিবি চ্যাটার্জি রোডের ৪০ বছর ধরে চলে আসা বুক স্টল এবার করতে দেয়নি পুলিশ এবং বিজেপি। কিন্তু স্টল হয়েছে। শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে স্টলের জন্য নিজের বাড়ির গ্যারেজে খুলে দিয়েছেন এলাকার বাসিন্দা মিলন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, যাঁরা বইয়ের মর্ম বোঝে না, তাঁরা হামলা করবে। হালতুর শক্তি সংঘের সামনে বুকস্টল তুলে দিত বলেছিল পুলিশ। স্টল তোলেননি সিপিএম কর্মীরা। উলটে এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিক্রি বেড়েছে ওই স্টলের। অতীতের সব হিসাব চাপিয়ে গিয়েছে। একদিনে ১০ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে। শুধু যাদবপুর, হালতু, কসবা নয়। দমদম, বারাকপুর, পুরুলিয়া, বারাসত – সর্বত্র হয়েছে হামলা। আসানসোলের কয়লা খনিতে মাটিতে বসেই বই বিক্রি করেন শ্রমিকরা। সেখানে মূলত হিন্দিতে অনুবাদ করা সাহিত্যের বই বিক্রি করা হয়। সেইসঙ্গে, মার্কসীয় সাহিত্য বিক্রি করা হয়।

১৯৫২ সালে প্রথম পার্কসার্কাস এবং বাগবাজার সর্বজনীনে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টি বইবিপণি শুরু করে। যার পুরোধা ছিলেন ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি তৈরির অন্যতম পুরোধা মুজফ্ফর আহমেদ। বাম জনতার কাছে যিনি ‘কাকাবাবু’ নামেই খ্যাত। কয়েক বছর আগে পার্কসার্কাসে স্টল দেওয়া বন্ধ হয় পুজো কমিটি তাদের পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তনের পর। বাগবাজারের স্টল যদিও এখনও হয়। সারা রাজ্যে কমবেশি ১৭০০ স্টল হয়েছে সিপিএমের।

ঘাটালে সিপিএমের বুকস্টলে রমরমিয়ে বিক্রি, ছবি: ফেসবুক

বৃহস্পতিবার রাজারহাটে সিপিএম কার্যালয়েও হামলা চলে। ভাঙচুর করা হয় পার্টি অফিসর আসবাবপত্র। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠতেই এনিয়ে রাজারহাটের বিজেপি বিধায়ক পীযুষ কানোরিয়ার বক্তব্য, অনেক মার্কস, লেনিন হয়েছে। বিদেশিদের মানতে চাইছে না সাধারণ মানুষ। শারদোৎসবের সময় বামেদের এই বুকস্টল নতুন নয়। ১৯৫২ সালে প্রথম পার্কসার্কাস এবং বাগবাজার সর্বজনীনে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টি বইবিপণি শুরু করে। যার পুরোধা ছিলেন ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি তৈরির অন্যতম পুরোধা মুজফ্ফর আহমেদ। বাম জনতার কাছে যিনি ‘কাকাবাবু’ নামেই খ্যাত। কয়েক বছর আগে পার্কসার্কাসে স্টল দেওয়া বন্ধ হয় পুজো কমিটি তাদের পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তনের পর। বাগবাজারের স্টল যদিও এখনও হয়। সারা রাজ্যে কমবেশি ১৭০০ স্টল হয়েছে সিপিএমের।

বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, প্রতিপক্ষের আক্রমণ অতীতেও হয়েছে। কংগ্রেস আমলে সূর্য সেন স্ট্রিটে ন্যাশনাল বুক এজেন্সির মূল অফিসে হামলা হয়েছিল। তবে পুজোর স্টলে কংগ্রেসের হামলার ঘটনা খুব বেশি নেই। সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্য, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর প্রথম কয়েক বছর স্টল করতে না-দেওয়ার নজির রয়েছে বেশ কিছু এলাকায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মেলাগুলিতে গণশক্তি এবং ন্যাশনাল বুক এজেন্সিকে স্টল করতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি দলের নেতাদের। কয়েক বছর পর অবশ্য পরিস্থিতি বদলে যায়। তবে বাম নেতারা একান্ত আলোচনায় স্পষ্টই বলছেন, কংগ্রেস বা তৃণমূল জমানায় যে ধরনের আক্রমণ ছিল, তার সঙ্গে এবারের ঘটনার গুণগত ফারাক রয়েছে। ন্যাশনাল বুক এজেন্সির অধিকর্তা ও প্রকাশক সিপিএম নেতা অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী বলেন, “পার্টির স্টলগুলিতে দলীয় পত্র-পত্রিকা ছাড়াও অন্যান্য প্রগতিশীল লেখকদের বই ইত্যাদি বিক্রি করা হয়। বিক্রি হওয়া বইয়ের ৭০ শতাংশই পার্টির পত্র-পত্রিকা।”

Source: Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Bengal & Politics (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language