কৃষ্ণনগরের কালীপুজো ও ঐতিহাসিক জগদ্ধাত্রী পুজোয় দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এই প্রথম বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করল কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলা। পুজো মণ্ডপের অবস্থান থেকে শুরু করে যান চলাচলের রুট, নো-এন্ট্রি জোন ও ট্র্যাফিক সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এবার মিলবে এক ক্লিকেই। পুজোর ভিড়ে মণ্ডপ খুঁজতে কিংবা কোন রাস্তা দিয়ে যাওয়া যাবে তা জানতে আর সমস্যায় পড়তে হবে না দর্শনার্থীদের। বাংলা ও ইংরেজি, দু’টি ভাষাতেই তৈরি করা হয়েছে এই অ্যাপ।
আসন্ন কালীপুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়োজিত প্রশাসনিক সমন্বয় বৈঠকে এই অভিনব উদ্যোগের কথা জানান কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার আই পি এস অতুল ভি। তিনি জানান, বর্তমানে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাচ্ছে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে গুগল প্লে স্টোরেও অ্যাপটি পাওয়া যাবে। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে কিউআর কোড দেওয়া লিফলেট বিলি করা হবে। সেই কোড স্ক্যান করেও অ্যাপের পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
অ্যাপের পাশাপাশি পুজোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও একাধিক পদক্ষেপ করছে পুলিশ। প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং বাধ্যতামূলকভাবে জরুরি নির্গমন পথ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুজো কমিটিগুলিকে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির জন্য বাড়ানো হবে ওয়াচ টাওয়ারের সংখ্যা। ড্রোনের মাধ্যমেও চলবে নজরদারি। পুজো ও বিসর্জনের দিনগুলিতে ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে পুলিশ কন্ট্রোল রুম এবং বিভিন্ন এলাকায় চলবে পুলিশি টহল। জরুরি প্রয়োজনে ১১২ অথবা ১০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
বৈঠকে উপস্থিত কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় পুজো উদ্যোক্তাদের প্রশাসনিক নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপ ও শোভাযাত্রায় যুক্ত স্বেচ্ছাসেবকদের সচিত্র পরিচয়পত্র দিতে হবে এবং তাঁদের তালিকা সংশ্লিষ্ট থানায় জমা রাখতে হবে। মণ্ডপ চত্বরে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর উপরেও জোর দেন তিনি। বিসর্জনের সময় যাতে যান চলাচল ব্যাহত না হয়, সে দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন বিধায়ক। রাস্তা আটকে বিসর্জন করা যাবে না এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে দ্রুত নিরঞ্জন পর্ব শেষ করতে হবে বলে নির্দেশ দেন তিনি। ভবিষ্যতে পুজো পরিচালনা ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে একটি কেন্দ্রীয় পুজো কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেন।
প্রযুক্তির ব্যবহারকে সামনে রেখে এ বছর কৃষ্ণনগরের পুজোয় নতুন সংযোজন পুলিশের এই বিশেষ অ্যাপ। দর্শনার্থীদের পথ দেখানো থেকে শুরু করে যান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এই ডিজিটাল উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।