বৈভব সূর্যবংশী কি ভবিষ্যতে সাফল্য পাবে? নাকি উল্কার মতো উত্থানের পর আচমকা ঝরে যাবে? চিন্তা-দুশ্চিন্তা ভারতের ক্রিকেট ভক্তদের। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ভারতীয় ক্রিকেটে বড় নাম এই বাঁহাতি তারকা। তার প্রতিভা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা। কিন্তু এত তাকে বৈভবকে নিয়ে অতিরিক্ত হইচই করতে নারাজ কপিল দেব। বরং তরুণ ক্রিকেটারের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিনোদ কাম্বলির উদাহরণ টেনে সতর্ক করেছেন ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
কপিলের মতে, অল্প বয়সে প্রতিভার ঝলক দেখানোই যথেষ্ট নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক ভাবে ভালো খেলতে পারলেই কোনও ক্রিকেটারকে বড় তারকা বলা যায়। তাই বৈভবকে নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চান না তিনি। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে টেস্ট ক্রিকেটে ৪৩৪ উইকেটের মালিক বলেন, “এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না। ওর মধ্যে সত্যিই সেই ক্ষমতা রয়েছে কি না, সেটা সময়ই বলবে। আমরা অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে আসতে দেখেছি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁরা হারিয়ে গিয়েছেন।”
এর পরেই কাম্বলির প্রসঙ্গ টানেন কপিল। ভারতীয় দলে অভিষেকের সময় কাম্বলিকে অনেকে শচীন তেণ্ডুলকরের থেকেও বেশি প্রতিভাবান মনে করতেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নানা কারণে তাঁর ক্রিকেটজীবন প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছয়নি। কপিলের কথায়, “বিনোদ কাম্বলির কথাই ধরুন। ওরও অসাধারণ প্রতিভা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হারিয়ে গেল। তা হলে ওর ক্ষেত্রে আপনি কী বলবেন?”
বৈভবের ক্ষেত্রেও তাই আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে চান কপিল। তাঁর মতে, আগামী কয়েক বছরেই বোঝা যাবে এই তরুণ ক্রিকেটারের কেরিয়ার কোন দিকে এগোয়। কপিল বলেন, “বৈভবের বয়স এখন মাত্র ১৫। ওকে আরও তিন বছর খেলতে দিন। তার পর ওকে নিয়ে কথা বলা যাবে।” প্রসঙ্গত, দেশের হয়ে ১০৪টি ওয়ানডে ও ১৭টি টেস্ট খেলেছেন বিনোদ কাম্বলি। কেরিয়ারের শুরুতে অনেক মাইলফলকই অর্জন করেছিলেন। পরপর দু’টি দ্বিশতরানের রেকর্ডও তাঁর নামে। কিন্তু অচিরেই হারিয়ে গিয়েছেন ক্রিকেট থেকে। এরজন্য অনেকেই তাঁর অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনকে দায়ী করেন। হয়তো সেই কারণেই কপিল দেব সতর্ক করে দিলেন বৈভবকে।
