২০১৮ সাল। প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া তথা অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তর আনা ‘মিটু’ অভিযোগে উত্তাল হয়েছিল বলিউড তথা গোটা দেশ। নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে শুটিং সেটে অশালীনভাবে স্পর্ষ করার অভিযোগ এনেছিলেন নায়িকা। বলা যায়, মুম্বই নিবাসী এই বঙ্গকন্যার অভিযোগের ভিত্তিতেই সুদূর হলিউড থেকে আরবসাগরের তীরে মায়ানগরীতে আছড়ে পড়েছিল ‘মিটু’ আন্দোলন। সেসময়ে অনেকেই তনুশ্রীর বিস্ফোরক দাবিতে নানা পাটেকরকে ‘ভিলেন’ আখ্যা দিয়েছিলেন। আর আজ যখন সেই অভিনেতাই পরপারের উদ্দেশে রওনা হলেন, তখন তনুশ্রী দত্তর প্রতিক্রিয়ার দিকেই নজর ছিল গোটা দেশের। শেষমেশ অভিনেত্রী মুখ খুললেন বটে, তবে যে প্রতিক্রিয়া দিলেন, তাতে স্তম্ভিত ভক্তমহল।
“আজ আমার কাজের দিন। একটা অনুষ্ঠানের জন্য লখনউ যাচ্ছি এবং সেদিকেই মনোযোগ দিতে চাই আপাতত। এমন একটা দিনে এসব ঘটনা ঘটা সত্যিই অদ্ভুত!…”
ঠিক কী ঘটেছিল? ২০০৮ সালে শুটিং চলছিল ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির শুটিং। ছবির একটি গানের শুটিং করছিলেন তনুশ্রী। অভিনেত্রীর অভিযোগ, ওই গানের শুটিং চলার সময়েই নানা পাটেকর তাঁকে অশ্লীলভাবে স্পর্শ করেন। এরপর তিনি অভিনেতার সঙ্গে কোনও রকম ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে চাননি। প্রতিবাদের খেসারতওনাকি দিতে হয় বলেও অভিযোগ করেছিলেন তনুশ্রী। তিনি দাবি করেন, নানা পাটেকরের পরিকল্পনামাফিক মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা তাঁর উপর হামলা চালায়। যদিও নানা নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছিলেন, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির শুটিং হয়েছিল। দশ বছর বাদে প্রচারের আলোয় আসার জন্য তনুশ্রী মিথ্যে কথা বলছেন। অভিনেত্রীকে পালটা আইনি নোটিসও পাঠান তিনি। এবার নানা পাটেকরের প্রয়াণে ‘এভিল ডেড’ বলে পরিহাস করলেন তনুশ্রী দত্ত।

নানা পাটেকারের নামোল্লেখ না করেই অভিনেত্রীর মন্তব্য, “খবরটা শুনলাম। আজ আমার কাজের দিন। একটা অনুষ্ঠানের জন্য লখনউ যাচ্ছি এবং সেদিকেই মনোযোগ দিতে চাই আপাতত। এমন একটা দিনে এসব ঘটনা ঘটা সত্যিই অদ্ভুত! লখনউতে আমার একটা বড় অনুষ্ঠান রয়েছে এবং সারাদিনের পরিকল্পনা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল আমার। লাইভ করা বা কনটেন্ট পোস্ট করারও ইচ্ছে ছিল, কিন্তু এখন দুশ্চিন্তা হচ্ছে যে সন্ধেয় হয়তো সব মিডিয়া ওই ‘ইভিল ডেড’ (নানা প্রসঙ্গে)-কে নিয়েই আগ্রহী হয়ে উঠবে। তাই কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত, তা ঠিক করে তবেই আমি আমার মতামত জানাব।” পাসাপাশি তনুশ্রী এও যোগ করেন যে, “অবশ্যই, ওঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।”
শুধু নানা পাটেকরই নন, ২০১৮ সালে কোরিওগ্রাফার গণেশ আচারিয়ার বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছিলেন তনুশ্রী। তাঁর অভিযোগ, গণেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে নাচ করার জন্য জোর করেছিলেন। প্রযোজক অমিত সিদ্দিকি, রাকেশ সারঙ্গিও অভিযোগের বাইরে ছিলেন না। যদিও গণেশ আচারিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তনুশ্রীর কথায়, সবাই সেদিন মিলেমিশেই তাঁকে নাস্তানাবুদ করেছিলেন। এমনকী শুটিংয়ের সময় তাঁকে মারধরের পরিকল্পনা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার লোকজনকে ডেকে তনুশ্রীর গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলেও শোনা গিয়েছিল। গাড়িতে তখন তাঁর বাবা-মা ছিলেন। সেদিন গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তনুশ্রী।
