এখনও আইএসএল শুরুই হল না, অথচ মরশুমের চতুর্থ ডার্বিতে বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হতে চলেছে দুই প্রধান। এই ডার্বিতে নামার আগের দিন মোহনবাগান অনুশীলনে ছাংতেরা যখন শেষ প্রস্তুতি সারছেন, তখন মাঠের এক কোণে ফিজিওর সঙ্গে দাঁড়িয়ে সেই প্রস্তুতি এক নজরে দেখছিলেন জেমি ম্যাকলারেন। এই মহার্ঘ ফুটবলারকে কুঁচকির চোটের জন্য শিল্ড ফাইনালে পাচ্ছে না মোহনবাগান।
ম্যাকলারেন না থাকাটা মোহনবাগানের কাছে অবশ্যই যেমন ফ্যাক্টর, তেমনই এই অল্প কয়েকদিনের মধ্যে লি এরউইনের পারফরম্যান্সকেও ফেলে দেওয়া যায় না। বৃহস্পতিবার আক্রমণভাগে ম্যাকলারেনের পরিবর্তে এরউইনকেই দায়িত্ব দিতে পারেন মোহনবাগান কোচ প্যানাজিওটিস দিলেমপেরিস।
উরুগুয়ে ম্যাচ খেলে জাতীয় দলের ফুটবলাররা এদিন যোগ দিলেন অনুশীলনে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ব্রাজিল-উরুগুয়ের মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচ খেলে আসা এই ফুটবলারদের কতক্ষণ ডার্বিতে খেলাবেন দিলেমপেরিস? অনুশীলনে মনবীরকে দেখা গেল একলা রিকভারি করতে। মেহতাব সিং ও সাহাল আবদুল সামাদরা দলের সঙ্গে অনুশীলন করলেও আপুইয়া, অভিষেক সিং ও অনিরুদ্ধ থাপারা ড্রেসিংরুমেই ছিলেন। শেষ তিন ফুটবলার অনুশীলনে নামেননি।
অনুশীলনে যে সাম্ভাব্য একাদশটিকে নিয়ে নাড়াচাড়া করলেন দিলেমপেরিস তা এই রকম– গোলে বিশাল কাইথ। রক্ষণে আলবার্তো, সাজি, মেহতাব ও শুভাশিস। মাঝমাঠে দ্রাজিচ, টাংরি, অভিষেক ও ছাংতে। এঁদের সামনে মিগুয়েল। একেবারে সামনে এরউইন। ডার্বিতে মনবীরদের ব্যবহার করবেন কি না জানতে চাইলে দিলেমপেরিস বলেন, “মঙ্গলবার রাতেই আমি সহকারী কোচের সঙ্গে জাতীয় ফুটবলারদের লোড নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। শুধু জাতীয় দলের ফুটবলাররাই নন, আরও বেশ কয়েকজন ফুটবলার ঘরোয়া লিগ, আইএফএ শিল্ডে দীর্ঘক্ষণ ধারাবাহিকভাবে খেলেছে। কাকে কতক্ষণ এই ম্যাচে খেলাব তা এখনই বলতে পারছি না। তবে চেষ্টা করব সবাইকে তরতাজাভাবে ডার্বিতে নামাতে। তবে মাথায় রাখতে হবে, চারদিন পরেই আইএসএল। আমাদের সেদিকে প্রস্তুত থাকতে হবে।”
শিল্ড সেমিফাইনালে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে জিতলেও সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হয়েছে মোহনবাগানকে। কেন সেমিফাইনালে খারাপ খেলেছে দল, এই বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আশিস রাইয়ের চোটের কারণে আমাদের ফর্মেশন বদলাতে হয়েছে। স্কোয়াড ছোট থাকায় আমাদের এমন কয়েকজন ফুটবলারকে অন্য পজিশনে খেলাতে হয়েছে, যারা সেই পজিশনে প্রথমবার খেলেছে। ডার্বি আমাদের কাছে সম্মানের ম্যাচ। পরের ম্যাচগুলোর জন্য এই ম্যাচ আমাদের জেতা প্রয়োজন।”
সেমিফাইনালে টাইব্রেকার হলেও ফাইনালের আগের দিন পেনাল্টি অনুশীলন করাননি মোহনবাগান কোচ। অন্যদিকে, সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে গোলের মালা পরিয়েছে। হ্যাটট্রিক করে দারুণ ফর্মে রয়েছেন ডেভিডরা। এই প্রসঙ্গে শুনেই মোহনবাগান কোচ আরও বলেন, “ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগে ডেভিড, এডমুন্ডের মতো অনেক ভালো ফুটবলার রয়েছে ঠিকই। আমাদেরও এমন ফুটবলার রয়েছে যারা হ্যাটট্রিক করেছে। মনবীর, সাহাল, ছাংতেরাও হ্যাটট্রিক করেছে।”
