প্লে-স্কুলে সারাদিন কী কী ঘটেছে, তা বলতে গিয়ে কি আপনার কপাল-গালে হাত বোলায় একরত্তি? এই ছবি নতুন বাবা-মায়ের কাছে একেবারে নতুন নয়। শিশুরা গল্প করতে করতে অনেক সময়েই অভিভাবকদের মুখে হাত রাখে। কখনও ভ্রুতে হাত বোলায়, কখনও চিবুক ধরে, আবার কখনও নাকে আলতো করে টোকা দিয়েই নিজের গল্প চালিয়ে যায়। অভিভাবক হাত সরিয়ে দিলেও কিছুক্ষণ পর সেই ছোট্ট হাত আবার মুখের উপর ফিরে আসে।
অনেক বাবা-মা এই অভ্যাসকে নিছক দুষ্টুমি বা অস্থিরতা বলে করেন। কিন্তু সত্যিই কি তাই (Parenting Tips)?

কথা বলার সময় স্পর্শ করার প্রবণতা কেন আসে?
শিশুর ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের গায়ে হেলান দেওয়া, হাত ধরা, চুল নিয়ে খেলা বা তা মুখে দেওয়া, কথোপকথনেরই অংশ হয়ে যায়। বিশেষ করে ছোটরা যখন কারও সঙ্গে কথা বলে, তখন সেই ব্যক্তির সবটুকু মনোযোগ তার দিকেই থাক, এমনটা চায়।
বাবা-মায়ের মুখ ছোঁয়ার ইচ্ছে হয় কেন?
শিশুর কাছে বাবা-মায়ের মুখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের সঙ্গে তার প্রাথমিক পরিচয় হয় বাবা-মায়ের হাত ধরেই। মা হাসছে কি না, বাবা বিরক্ত হয়েছে কি না, তার গল্প শুনে বাবা-মা মজা পেয়েছে কি না—এইসব বুঝতে চায় একরত্তি।
বাবা-মায়েরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকবে, এমনটাই স্বাভাবিক। সারাদিনের শেষে ক্লান্তিতেও আচ্ছন্ন হয়ে থাকবে হয়তো। কিন্তু শিশু যখন বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলবে, তখন সে চাইবে মনোযোগের সবটুকু দখল করে থাকতে। হয়তো স্পষ্ট ভাষায় ‘আমার দিকে তাকাও’ বলা হয়ে ওঠে না তার পক্ষে। কিন্তু বাবা-মায়ের বারবার ছোঁয়া আদতে এমনটা বলার সমতুল্যই।
বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুর নিরাপত্তাবোধও গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। ফলে বাইরের জগতে সে যা করতে পারে না, তা স্বচ্ছন্দে করতে চায় অভিভাবকের সঙ্গে। বাইরে তার সেটুকু আড়ষ্ট ভাব, বাবা-মায়ের কাছে এলেই তা মুহূর্তে মুছে যায়।
অভিভাবকরা অনেক সময় এমন গা ছুঁয়ে কথা বলা অপছন্দ করেন। শিশুটি ‘অ্যাটেনশন সিকিংয়ের’ জন্য এমনটা করছে, এ কথাও বলে থাকে অনেকেই। কিন্তু মনোবিদরা বলছেন, কখনওই শিশুদের আচরণকে এমন বড়দের মানদণ্ডে বিচার করা সাজে না। এই ছোট্ট ছোট্ট ছোঁয়া আদতে বাবা-মায়ের প্রতি শিশুর ভালোবাসারই প্রকাশ।
শিশুটিকে অবশ্যই ব্যক্তিগত সীমারেখার ধারণা করাতে হবে। যেমন চোখে বা মুখের মধ্যে হাত দিতে বারণ করুন, কথা বলার সময় যাতে অন্যের মুখ ছোঁয়ার প্রবণতা খানিকটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেদিকে নজর রাখুন। কিন্তু তা বলে তাকে এই অভ্যাস বদলাতে অহেতুক বকাবকি করবেন না।
