ত্রিপুরার রাজনীতিতে ভূমিকম্প! একপ্রকার আচমকা সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর ঘোষণা করলেন ত্রিপুরার রাজা প্রদ্যৎ মাণিক্য দেববর্মা। সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ চিঠিতে রাজনীতি ছাড়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
প্রদ্যোতের বার্তা, দীর্ঘদিন জনজাতিদের জন্য লড়াই করেছেন। এবার শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি ক্লান্ত। আর কোনও সক্রিয় রাজনৈতিক পদে তিনি থাকবেন না। দীর্ঘ লড়াইয়ে তাঁর সঙ্গে যারা ছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। সুচিন্তিতভাবেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ‘সংবাদ প্রতিদিন’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। তাছাড়া রাজনীতির জটিলতায় তিনি হতাশ। আসলে প্রদ্যোত রাজনীতি শুরুর আগে বেশ প্রতিশ্রুতি দেন ত্রিপুরার জনজাতিদের। এর মধ্যে পৃথক তিপ্রাল্যান্ড, ভূমির অধিকারের মতো প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু সেগুলি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। প্রদ্যোত বিজেপির সঙ্গে দর কষাকষির পরও ওই দাবিগুলি পূরণ করে উঠতে পারেননি। আগামী দিনে পারবেন কিনা নিশ্চিত নয়। এই অনিশ্চয়তাই তাঁর রাজনৈতিক হতাশার অন্যতম কারণ।
উল্লেখ করা যেতে পারে, একসময় কংগ্রেস থেকে রাজনীতি শুরু করে পরে নিজে তিপ্র মথা নামে নতুন রাজনৈতিক দল গড়ে তোলেন প্রদ্যোৎ। এখনও তিনি তিপ্রার চেয়ারম্যান। তাঁর নেতৃত্বে দল বিধানসভায় ভালো ফল করেছে। ত্রিপুরার অধিকাংশ জেলা পরিষদ আসন দখল করেছেন। সদ্য সমাপ্ত ভিলেজ ভোটেও ব্যাপক জয় হয়েছে তিপ্রার। এই মুহূর্তে সংখ্যার বিচারে ত্রিপুরার সবচেয়ে বড় দল তিপ্রা মথাই। অন্তত ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের পর তিপ্রা সংখ্যার নিরিখে বিজেপিকেও অনেকটা পিছনে ফেলে দিয়েছে। সেদিক থেকে দেখতে গেলে তিপ্রা এখন সাফল্যের শীর্ষে। আর প্রদ্যোত সাফল্যের শীর্ষে থেকেই রাজনীতি ছাড়তে চান।
তাঁর অবসরের সিদ্ধান্ত আগামী দিনে ত্রিপুরার রাজনীতিকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, সেটা নিয়ে ইতিমধ্যেই কাটাছেড়া শুরু হয়েছে। আসলে ত্রিপুরার মহারাজ রাজ্যের জনজাতিদের মধ্যে প্রবল জনপ্রিয়। তাঁর অবসর তিপ্রাকে দুর্বল করবে।