গর্ভনিরোধের দায়িত্ব কি এ বার ভাগ করে নিতে পারবেন পুরুষরাও? ফুরবে কন্ডোমের প্রয়োজন? যৌনমিলনের আগে একটি ট্যাবলেট বা বড়ি খেলেই যদি কয়েক ঘণ্টার জন্য শুক্রাণুর চলাচল থামিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে বদলে যেতে পারে প্রচলিত গর্ভনিরোধের হিসাব।
এমনই এক সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষাধীন এই ওষুধটি ৩০ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারে বলে গবেষণার প্রাথমিক ধারণা। তবে এখনই একে নিশ্চিত গর্ভনিরোধক ভাবার কোনও কারণ নেই। মানুষের শরীরে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা এখনও পরীক্ষার অপেক্ষায়।

শুক্রাণু তৈরি হবে, কিন্তু চলবে না!
পুরুষদের জন্য নতুন এই গর্ভনিরোধক বড়ির (Male Birth Control Pill) অভিনবত্ব এখানেই। সাধারণত পুরুষদের গর্ভনিরোধের স্থায়ী পদ্ধতি ভ্যাসেকটমি। অন্য দিকে, পুরুষদের জন্য হরমোনভিত্তিক গর্ভনিরোধক তৈরির গবেষণাও চলছে। কিন্তু নতুন ওষুধটির লক্ষ্য শুক্রাণু তৈরি বন্ধ করা নয়, বরং শরীরে আগে থেকেই তৈরি শুক্রাণুর চলাচল সাময়িকভাবে থামিয়ে দেওয়া।
শুক্রাণুকে ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছতে হলে সক্রিয় ভাবে চলাচল করতে হয়। গবেষকদের পরিকল্পনা, সেই চলাচল সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় একটি জৈবিক প্রক্রিয়ায় বাধা দেবে ওষুধটি। ফলে শুক্রাণু তৈরি হলেও তার চলাচল সাময়িক ভাবে আটকে যেতে পারে। গবেষকদের প্রত্যাশা, ওষুধের প্রভাব কেটে গেলে প্রজননক্ষমতাও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

৩০ মিনিটে কাজ, প্রভাব ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা?
এই ওষুধের সম্ভাব্য কার্যকারিতার সময়সীমা নিয়েই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ। গবেষণার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্যাবলেট প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করতে পারে এবং তার প্রভাব ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে। অর্থাৎ, প্রতিদিন নিয়ম করে ওষুধ খাওয়ার বদলে প্রয়োজনমতো ব্যবহারযোগ্য গর্ভনিরোধক তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এই সময়সীমা এখনও মানুষের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ওষুধটি বাস্তবে কত দ্রুত কাজ করবে, কতক্ষণ কার্যকর থাকবে এবং গর্ভধারণ প্রতিরোধে কতটা নির্ভরযোগ্য হবে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
