দেশের মুখ্য-নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তপ্ত দেশের রাজধানী। বাম-কংগ্রেস-আপের আন্দোলন জারি। এই আবহে কলকাতায় ‘জ্ঞানেশ হঠাও’ অভিযানে কংগ্রেসের লোকভবন ঘেরাও কর্মসূচিতে ধুন্ধুমার। লোকভবনের গেটেই কংগ্রেস কর্মীদের আটকায় পুলিশ। গার্ডরেল সরিয়ে এগোনোর চেষ্টা করতেই কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায় পুলিশের। ব্যারিকেড তুলে চলে ধস্তাধস্তি। এরপরই ঘটনাস্থল থেকে কংগ্রেস কর্মীদের পরপর আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ। দলীয় পতাকা হাতে স্লোগান দিতে থাকে হাতশিবিরের কর্মীরা। বলেন, ‘আমরা জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারি চাই। অনুমতি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে।’

এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দিল্লিতে পথে নেমেছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার দিনভর নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের উলটো দিকে আকাশবাণী ভবনের সামনে ধরনা দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। সন্ধে নাগাদ সেখান থেকেই তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। আকাশবাণীর সামনে থেকে ধরনা তুলে দিতে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাহুল-প্রিয়াঙ্কা ছাড়াও কেসি বেণুগোপাল, দীপেন্দর সিং হুডা-সহ একদল কংগ্রেস নেতা-কর্মীকে আটক করেপুলিশ। আকাশবাণী ভবন চত্বর থেকে ধরনা তুলে দিতেই কড়া পদক্ষেপ করা হয়। এদিন সকালে আকাশবাণী ভবনের সামনে থেকেই কংগ্রেস নেতা হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “কেউ ছাড় পাবে না। সবাইকে ধ্বংস করে দেব।”

আন্দোলনের ঝাঁঝ এবার শহরের রাজপথেও। বুধবার ভরদুপুরে লোকভবনের সামনে কংগ্রেসের কর্মসূচিতে ধুন্ধুমার। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের গ্রেপ্তারির দাবিতে এদিন সুর চড়ান কংগ্রেস কর্মীরা। পুলিশের প্রতিরোধের মুখে রাস্তায় শুয়ে পড়ে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন কংগ্রেস কর্মীরা। তাঁদের পরপর আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুলে এলাকা খালি করে পুলিশ।

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন অভিযান করে ইন্ডি জোট। লোকসভার বিরোধী রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এদিন মিছিলে পা মেলান সম্মিলিত বিরোধী জোটের সাংসদরা। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া সুলে-সহ জোটের শীর্ষ নেতারা মিছিলে হাঁটেন। তবে আপ এবং ডিএমকের কোনও প্রতিনিধি ছিলেন না। শেষে ইন্ডি সাংসদদের আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। বাধা পেয়ে কমিশনের উলটো দিকে আকাশবাণী ভবনের সামনে ধরনায় বসেন বিরোধী সাংসদরা। এবার ‘জ্ঞানেশ হটাও’ অভিযানে সরগরম তিলোত্তমাও।
