Hashtagintro

কলকাতার ভিড় ঠেলে ঠাকুর দেখার অভ্যেস নেই, এবার বউকে ‘পুজোর বাঁকুড়া’ দেখাবে ‘ঘোতন’

চলতি বছর, ৪ মে ভোটের রেজাল্টের আবহে বিয়ে করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন ‘বাঁকুড়া মিমস’-এর ‘ঘোতন’ ওরফে উন্মেষ গঙ্গোপাধ্যায়। আর বিয়ের পর প্রথম পুজো মানেই বিশেষ পরিকল্পনা। স্ত্রী’র সঙ্গে একগুচ্ছ প্ল্যান সাজিয়ে ফেলেছেন ইনফ্লুয়েন্সার-অভিনেতা। কী কী রয়েছে ‘বাকেট লিস্টে’? সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন-কে জানালেন উন্মেষ।

“যেহেতু ধুতি ভালো সামলাতে পারি না, হোঁচট খাই, তাই অষ্টমীতে পাঞ্জাবি-পাজামা পরে অঞ্জলি দেব।…”

‘ঘোতন’ জানালেন, আমার পুজো মানেই বাঁকুড়ায় সপরিবারে হইহই করে সময় কাটানো। গত কয়েক বছরে পুজোর দিনগুলিতে কোনও কাজ এলেও আমি করি না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুজোর আগে বাড়িতে চলে যাই। এবছর আমার পুজোর প্ল্যানে নতুন সংযোজন বলতে আমার স্ত্রী। ওঁকে নিয়ে কত তাড়াতাড়ি বাড়ি যাব, আপাতত সেটারই অপেক্ষা। প্রথম সপ্তমী মানে, আগামী শনিবার বাঁকুড়া যাচ্ছি। সকাল সকাল কলকাতা থেকে বেরিয়ে পড়ব। তার আগে ষষ্ঠী অবধি কলকাতাতেই প্ল্যান। প্যান্ডেল হপিংয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই উন্মেষের মন্তব্য, “পুজোর সময়ে ব্র্যান্ড কোল্যাবোরেশনের চাপ থাকে। যেহেতু আমরা কসবায় থাকি, তো এখানেই ক’টা বড় পুজো হয়। রাজডাঙ্গা উদয়ন সংঘ, বোসপুকুর, তালবাগান- বাঁকুড়া যাওয়ার আগে এই পুজোগুলো দেখার প্ল্যান রয়েছে। আসলে আমি বা আমার স্ত্রী, দু’জনেই খুব একটা ভিড়ভাট্টা পছন্দ করি না। আমি যেহেতু বাঁকুড়ার ছেলে, ওখানেই বড় হওয়া, তাই কলকাতার ভিড় ঠেলে ঠাকুর দেখার অভ্যেস আমার খুব একটা নেই। অনেকেই হয়তো দেখেন। কিন্তু আমার মনে হয়, যানজটেই পুরো সময়টা কেটে গেল!”

“শৈশবে পুজোর আনন্দ বলতেই ক্যাপ বন্দুক, কালীপটকা, চকোলেট বোম, বুড়িপটকা ফাটানো। আমাদের বাঁকুড়ায় একটা স্পেশাল বোম আছে, যাকে ‘গেঠা’ বলে।…”

‘ঘোতন’ বলছেন, “বাঁকুড়ার ছোটখাট পাড়ার মণ্ডপগুলোতেই পুজোর আমেজ খুঁজে পাই। ওখানে নদীর ধারে বসব। কাশবনের মাঝে ছবি তুলব। কেঁদুয়ারি, লালবাজার- ওই স্পেশাল মণ্ডপগুলোয় যাব। আমি যেভাবে এতদিন বাঁকুড়ার পুজো দেখেছি বা পুজোর বাঁকুড়া কেমন? এবার আমার স্ত্রীকে সেটার সঙ্গেই পরিচয় করাব। ওঁর জন্য একটা অন্যরকম পুজো হবে। আগের পুজোগুলোয় বউ অভিযোগ করত, আমি কলকাতায় থাকি না। আলাদা কাটাতে হবে। কিন্তু এবার আমরা একসঙ্গে কাটাব।” বিয়ের পর যেহেতু প্রথম পুজো, তাই শপিং আলাদা ফ্যাক্টর! উন্মেষ বললেন, “স্ত্রী আর বাড়ির সকলে মিলে কেনাকাটি টুকটাক সারতে পেরেছি। তবে আমার স্ত্রীর অভিযোগ, আমি নিজের জন্য নাকি কম শপিং করেছি। ওর দাবি, আমার সব লুকগুলো এখনও কমপ্লিট হয়নি। মানে প্রত্যেক দিনের আলাদা লুক আর কী! কথা হলেই জিজ্ঞেস করছে- বাকি কেনাকাটিগুলো আমি কবে সারব? বিয়েতে যেহেতু অনেক পাঞ্জাবি পেয়েছি, তাই আলাদা করে কিনতে চাইনি। কিন্তু আমার স্ত্রীর কথায়, সারাদিন কি পাঞ্জাবি পরে কাটানো যায়? দু’জনে রং মিলান্তি পোশাক পরব বলে ভেবেছি। দশমীর সিঁদুর খেলা নিয়ে বউ খুব এক্সাইটেড। তার জন্য লাল পাড় সাদা শাড়িও কিনে ফেলেছে।”

Influencer Unmesh Ganguly ties knot amid WB assembly Election result
বিয়ের পর প্রথম পুজোয় কী প্ল্যান উন্মেষের? 

অষ্টমীর অঞ্জলি বাঁকুড়ায় পাড়ার প্যান্ডেলেই দেন উন্মেষ। ‘ঘোতন’ বললেন, “যেহেতু ধুতি ভালো সামলাতে পারি না, হোঁচট খাই, তাই অষ্টমীতে পাঞ্জাবি-পাজামা পরে অঞ্জলি দেব। এদিন আবার আমাদের বাড়িতেও পুজো থাকে। ওখানেও থাকতে হয়। প্রথমবার বউকে নিয়ে পাড়ার পুজোয় থাকছি। গতবছর সকলে ‘দোকায়’ পুজো দেওয়ার কথা বলেছিল। এবার শেষমেশ সেটা হচ্ছে। মোটমাট পাড়াতেই হইহই করে অনেকটা সময় কেটে যায়।” কথাপ্রসঙ্গে নস্ট্যালজিয়ার সরণি বেয়ে ইনফ্লুয়েন্সার ফিরে গেলেন শৈশবের দিনগুলিতে। উন্মেষ বললেন, “শৈশবে পুজোর আনন্দ বলতেই ক্যাপ বন্দুক, কালীপটকা, চকোলেট বোম, বুড়িপটকা ফাটানো। আমাদের বাঁকুড়ায় একটা স্পেশাল বোম আছে, যাকে ‘গেঠা’ বলে। ছোটবেলায় মনে হত যেন এসব বোম নিয়ে আমরা বন্ধুরা যুদ্ধ করতে যাচ্ছি। আমাদের দুটো দল থাকত। কে, কটা বোম ফাটালো? কত জোরে আওয়াজ হল? এসব ছিল আমাদের অনাবিল আনন্দের উপকরণ। এখন যেটা নস্ট্যালজিয়া। এখনও অবশ্য সন্ধিপুজোর সময়ে এপাড়া-ওপাড়া মিলে বোম প্রতিযোগিতা চলে।”

নবমী পাঁঠার মাংস ছাড়া জমে না। আর দশমীতে বাঁকুড়া স্পেশাল ‘টানা নাড়ু’ খাই।

আর শারদোৎসব মানেই জম্পেশ উদরপূর্তি। উন্মেষ নিজেই জানালেন যে, তিনি আদ্যোন্ত খাদ্যরসিক। পুজোর ক’টা দিন বাঁকুড়ার বাড়িতে কি বিশেষ কোনও পদ হয়? ইনফ্লুয়েন্সারের মন্তব্য, “বাড়িতে অষ্টমী পর্যন্ত নিরামিষ হলেও ভুরিভোজে আমার কোনও ছুঁতমার্গ নেই। ভোগ তো খাই-ই। বাইরে আমিষও খাই। তবে অষ্টমীর দিন লুচি, ছোলার ডাল, আলুর দম, ছোলা দিয়ে কুমড়োর ছক্কা, মিষ্টি-পায়েস মাস্ট! আর নবমী পাঁঠার মাংস ছাড়া জমে না। আর দশমীতে বাঁকুড়া স্পেশাল ‘টানা নাড়ু’ খাই। এছাড়া বিজয়া উদযাপনের জন্য আমাদের বাড়িতে নিমকি, মাংসের ঘুগনি হয়।”

Source: Sangbad Pratidin Entertainment (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Entertainment (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language