সামনেই কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন। তার আগেই কলকাতা পুরসভায় আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণে নিয়ম ভাঙার অভিযোগে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিএম। সেই মামলায় কার্যত মুখ পড়ল বামেদের। দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। এই বিষয়ে সিঙ্গল বেঞ্চ কোনও নির্দেশ না দেওয়ায় ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিএম। বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন জানানো হয়। কিন্তু সেই আবেদন সাড়া দেয়নি হাই কোর্ট। ফলে পুরভোট ঘোষণার ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকল না।
কলকাতা পুরসভায় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পর একধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে ওয়ার্ডের সংখ্যা। আগে যেখানে ছিল ১৪৪টি। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২০৯টি। ইতিমধ্যে ভোটের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। এরমধ্যেই এহেন পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিএম। মামলা দায়ের করেন দীপু দাস। আদালতে তিনি দাবি করেন, নতুন ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসে সীমানা নিয়ে একাধিক মারাত্মক আপত্তি জানিয়ে ‘স্পট ভিজিট’ ও নাগরিকদের মতামত জানতে এলাকায় গিয়ে জনশুনানির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ওয়ার্ডগুলির জনসংখ্যা, ভৌগলিক অবস্থান-সহ একাধিক ক্ষেত্রকে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে দাবি আবেদনকারী। এমনকী কোনও নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এহেন পদক্ষেপ বলেও দাবি করেন।
বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। যদিও এহেন মামলায় কোনও অন্তবর্তী নির্দেশ দেননি বিচারপতি। তবে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সবপক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যেই আজ, সোমবার এই বিষয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন বাম নেতা। আদালতে তাঁর আইনজীবী অন্তবর্তী নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান। আইনজীবী বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি ইতিমধ্যে যদি নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যায় তাহলে আমাদের এই আবেদনের কোন গুরুত্ব থাকবে না। ফলে অন্তবর্তী নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান। যদিও সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি ডিভিশন বেঞ্চ। এক্ষেত্রে বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, যেহেতু সিঙ্গল বেঞ্চে মামলাটি গৃহীত হয়েছে। তাই নির্বাচন ঘোষণা হলে প্রতিমুহূর্তে আদালতের কাছে আসার সুযোগ রয়েছে। ফলে এহেন মামলা পুজোর অবকাশকালীন বেঞ্চে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির প্রয়োজন নেই।