দীর্ঘ দুই দশকের ‘শত্রুতা’ ভুলে কাছাকাছি এসেছেন দুই ভাই। এবার তাঁরা একযোগে পথে নামলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) ইস্তফার দাবিতে। রবিবার মুম্বইয়ে দেখা গেল, উদ্ধব ঠাকরে এবং রাজ ঠাকরে একইসঙ্গে হাঁটছেন জ্ঞানেশবিরোধী মিছিলে। কংগ্রেস এবং শরদ পওয়ারের এনসিপির একাধিক নেতাও এদিনের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন।
বিরাট গর্জন মোর্চা নামে ওই মিছিলে পা মিলিয়েছেন দুই ঠাকরে ভাই। রাজের হুঙ্কার, “জ্ঞানেশ কাকা, ভোট লুঠ করবেন না।” অন্যদিকে উদ্ধব জ্ঞানেশের সঙ্গে তুলনা টেনেছেন হিটলারের। মুখ্য নির্বাচন কমিশনরের শাস্তির দাবিও তুলেছেন। রাজের দাবি, “মহারাষ্ট্রে এসআইআর বাতিল করতে হবে। কারণ ভোটের আগে অন্তত ৬০ লক্ষ নাম ভোটার তালিকায় তোলা হয়েছিল এবং তাদের ভোটে ক্ষমতা দখল হয়েছিল। এবার এসআইআর করে ২কোটি নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।” একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এই মিছিলে হাঁটলেও কোনও দলীয় পতাকা ছিল না। স্রেফ জাতীয় পতাকা নিয়ে পা মিলিয়েছেন সকলে।
উল্লেখ্য, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা নিয়ে মুম্বইয়ের রাজপথ গত কয়েকদিন থেকেই উত্তাল হয়েছে। ২ অক্টোবর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে মিলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লি ও মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। দিল্লিতে আটক হন অন্তত ১১০০ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন মধ্যে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতীশীও। তাঁকে যন্তরমন্তর থেকে রীতিমতো টানতে টানতে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। আটক হওয়া অন্যদের মধ্যে নাম ছিলেন সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাট, আইসা নেত্রী নেহা বোরা, আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং-সহ আপের একাধিক শীর্ষ নেতা।
জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে ফের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘আরশোলা’রা। সমাজমাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের “জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দিলে গোটা দেশের আরশোলা বাহিনী মিছিল করে দিল্লি যাবে। ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখাবে তারা। দিল্লি পুলিশ যদি আমাদের আটকানোর চেষ্টা করে, যেখানে আটকাবে, সেটাই হয়ে উঠবে আমাদের যন্তর মন্তর।” সবমিলিয়ে, জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে কার্যকলাপ ক্রমেই বাড়ছে।
Source: Sangbad Pratidin India (Bengali)
