সকালের চা বিধায়কের হাতে! শুনে অবাক হলেন? কিন্তু বুধবার সাতসকালে বীরভূমের সাঁইথিয়ায় এমনটাই ঘটেছে। শহর পরিদর্শনে বেরিয়ে রাস্তার ধারে ‘চায়ে পে চর্চা’ সারলেন বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। জনসংযোগের জন্য শুধু আড্ডা নয়, রাস্তার ধারে দোকানে ঢুকে নিজে হাতে চা বানালেন বিধায়ক। আর তা খাওয়ালেন দোকানে আসা ক্রেতাদের। বিধায়কের এই ভূমিকায় মুহূর্তেই জমে উঠল সকালের চায়ের আড্ডা। কৃষ্ণকান্তবাবু বোঝালেন, ‘যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে।’
বুধবার সকালে সাঁইথিয়া শহর পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। কখনো সাইকেল চালিয়ে ও আবার কখনো পায়ে হেঁটে শহরের বিভিন্ন রাস্তা ও অলিগলি ঘুরে দেখেন বিধায়ক। এরপর সাঁইথিয়া ইউনিয়ন বোর্ড মোড়ের কাছে একটি চায়ের দোকানে যান জনসংযোগের লক্ষ্যে। সেখানে উপস্থিত দলের কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে কথা বলেন তিনি। এর ফাঁকে নিজেই উঠে চা তৈরির কাজে হাত লাগান বিধায়ক। নিজের হাতে তৈরি সেই চা সকলের হাতে তুলে দেন বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। পরে সকলের সঙ্গে বসে চায়ে চুমুক দিতে দিতে চলে গল্প ও আড্ডা।

রাজনীতির ব্যস্ততার বাইরে বিধায়ককে অন্য রূপে দেখে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়। কারও হাতে চায়ের কাপ তুলে দিচ্ছেন বিধায়ক, আবার পরক্ষণেই তাঁদের সঙ্গে বসে গল্প করছেন, জানতে চাইছেন সমস্যার কথা, দিচ্ছেন সমাধানের আশ্বাস। তাতে আগ্রহী হয়ে আরও বেশ কয়েকজন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেন। চায়ের দোকানের এই ছবিতে যেন ঘুচে গেল জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের দূরত্ব। শহর পরিদর্শনের ফাঁকে চায়ের দোকানে বিধায়কের এই উদ্যোগ তাই এদিন সাঁইথিয়ায় আলাদা করে নজর কাড়ে। নিজে চা বানিয়ে মানুষের হাতে তুলে দিয়ে কৃষ্ণকান্ত সাহা যেন এই বার্তাই দিলেন, জনপ্রতিনিধিত্ব শুধু মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলা কিংবা ভোট চাওয়া নয়। আসল জনপ্রতিনিধি তিনিই, যিনি কখনও কখনও আমজনতার দৈনন্দিন কাজে হাত লাগানো। সাঁইথিয়ার বিজেপি বিধায়ককে দেখে অনেকেই বলছেন, সকলে যদি এমন হতেন, তাহলে এলাকার কাজকর্ম করা সুবিধাজনক হতো।
