মানবসেবার জন্য যে রাজনৈতিক রং-দলের আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন হয় না, বুঝিয়ে দিয়েছিলেন নানা পাটেকর। যে সময়ে ‘মানুষের সেবা করার জন্য রাজনীতিতে যোগ দিলাম’ সংলাপ আওড়ানো সেলেবদের ভিড়, তার বহু আগেই নিজের সাধপূরণের জন্য সঞ্চিত অর্থ মানবসেবায় বিলিয়ে নানা দেখিয়ে দিয়েছিলেন, দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে হলে জীবনে প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতিতে পা রাখার প্রয়োজন হয় না।
নানা দেখতে পেলেন কারও কোলে দুধের শিশু, কেউ বা সদ্য স্বামীহারা, কেউ বা সন্তানের হাত ধরে আগলে রেখেছেন। বৈধব্য যন্ত্রণা, খিদের জ্বালা যাঁদের কুরে কুরে খাচ্ছিল। আর সেই করুণ দৃশ্যই চিরতরে বদলে দিল তাঁর চিন্তাধারা।
২০১৫ সালের এক সন্ধে। পানীয়ের গ্লাস হাতে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন নানা পাটেকর। দীর্ঘদিনের ফিল্মি কেরিয়ারের সাফল্যের পর সবে একটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনবে বলে পরিকল্পনা করেছিলেন। তার জন্যে তিল তিল করে দেড় কোটি টাকাও জমিয়েছিলেন। কিন্তু খবরের চ্যানেলে চোখ রাখতেই যা দেখতে পেলেন, সেটাই চিরতরে বদলে গেল নানা পাটেকরের জীবনের গতিপথ। তিনি যখন এক কৃষকের আত্মহত্যার খবর দেখলেন, তখন নিজেকেই প্রশ্ন করে বসেছিলেন- ‘গাড়িটা কিনছি কেন?’ মহারাষ্ট্রে সেবার ব্যাপক খরা হয়। যার জেরে চাষাবাদে ক্ষতিও হয়েছিল। মারাঠওয়াড়ায় দেনার দায়ে ডুবে এক কৃষক আত্মহত্যা করেন। টিভির পর্দায় যখন তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাতর মুখগুলি নানা দেখেছিলেন, তখন নিজের সঞ্চিত দেড় কোটি কোন কাজে লাগাবেন, সেটা ভাবতে বিন্দুমাত্র দেরি করেননি।

এক সাক্ষাৎকারে নানা নিজেই জানিয়েছিলেন, “একটি নতুন গাড়ি কেনার জন্য দেড় কোটি টাকা জমিয়েছিলাম। কিন্তু ওই সন্ধেয় একজন কৃষকের আত্মহত্যার খবর দেখতে পাই। ওঁর পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছিল। এরপরই মারাঠওয়াড়ার এক বন্ধুকে ফোন করি। সহ-অভিনেতা মকরন্দ আনাসপুরেকেও ফোন করলাম। ওদের বললাম, আমার টাকায় আত্মঘাতী প্রত্যেক কৃষকের পরিবারকে ১৫,০০০ টাকার চেক পাঠানোর ব্যবস্থা করতে। কিন্তু মকরন্দ পালটা আমাকে সশরীরে ওই পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে বলেন। আমি গেলাম। ওদের সঙ্গে দেখা করে অর্থসাহায্য করলাম।” সেবার প্রায় ২০০-২৫০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অভিনেতা। নানা দেখতে পেলেন কারও কোলে দুধের শিশু। কেউ বা সদ্য স্বামীহারা, কেউ বা আবার সন্তানের হাত ধরে আগলে রেখেছেন। বৈধব্য যন্ত্রণা, খিদের জ্বালা যাঁদের কুরে কুরে খাচ্ছিল। আর সেই দৃশ্যই চিরতরে তাঁর জীবনদর্শন, চিন্তাধারা বদলে দিয়েছিল। নানা বুঝতে পেরেছিলেন, এককালীন অর্থসাহায্যে এই পরিবারগুলির দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। আর ঠিক সেখান থেকেই জন্ম নানা পাটেকরের ‘নাম ফাউন্ডেশনে’র।
