Hashtagintro

গম্ভীরের ড্রেসিংরুম ছিল ‘একদল সিংহে’র আস্তানা, কেকেআরকে নিয়ে কেন এমন বললেন আরসিবি তারকা?

গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) মন্ত্র ছিল একটাই, দলে থাকলে অবদান রাখতেই হবে। ব্যাটিং অর্ডারে কে কোথায় নামছেন, কত বল খেলার সুযোগ পাচ্ছেন, তা নিয়ে ভাবার অবকাশ ছিল না। কেকেআরের ২০২৪ সালের আইপিএল জয়ী দলের ড্রেসিংরুমের অন্দরমহলের ছবি তুলে ধরলেন আরসিবি তারকা ভেঙ্কটেশ আইয়ার (Venkatesh Iyer)।

বছর দুই আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের আইপিএল জয় শুধু কয়েকজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ফসল ছিল না। দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারই কোনও না কোনও দায়িত্ব পালনে তৈরি ছিলেন। আর এমন মানসিকতা তৈরির নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন মেন্টর গৌতম গম্ভীর। সম্প্রতি আকাশ চোপড়ার পডকাস্টে সে কথাই জানালেন কেকেআরের প্রাক্তন ক্রিকেটার ভেঙ্কটেশ আইয়ার। গম্ভীরের আমলে কেকেআরের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ কেমন ছিল? প্রাক্তন কেকেআর তারকা ভেঙ্কটেশ বলছেন, “সুনীল নারিন এবং ফিল সল্ট ওপেন করছে। অঙ্গকৃষ রঘুবংশী প্যাড পরে তৈরি। শ্রেয়স আইয়ার তৈরি। নীতীশ রানা তৈরি। আমিও তৈরি। রিঙ্কু সিং থেকে রমনদীপ সিং সবাই তৈরি। এমনকী দ্বিতীয় ওভার থেকেই আন্দ্রে রাসেলও প্যাড পরে তৈরি হয়ে বসে থাকত।”

ফাইল ছবি।

এর পরেই ভেঙ্কটেশের মন্তব্য, “মনে হত যেন একদল সিংহ মাঠে নামার জন্য অপেক্ষা করছে।” কেন এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল? বাঁহাতি তারকার কথায়, গম্ভীর স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, সকলের কাছে সেরাটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কেবল প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া নয়, দলের প্রয়োজনে যে কোনও দায়িত্ব পালন করতে হবে। এমন মানসিক প্রস্তুতি ছিল সকলের। গড়পড়তা পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট থাকার কোনও জায়গা ছিল না। গম্ভীরের সঙ্গে জিমে একাধিকবার কথা হয়েছে ভেঙ্কটেশের। সেখানেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেত দল। “তিনি আমাকে বলতেন, তুমি দলের সিনিয়র ক্রিকেটার। দল কীভাবে আরও ভালো করবে, সেটা তোমাকে ভাবতে হবে। নিজের মতামত জানানোর সাহস রাখতে হবে। কী মনে হচ্ছে, কোথায় উন্নতি করা যায়, সেটা খোলাখুলি বলতে হবে।”

অর্থাৎ, শুধু কোচ বা অধিনায়কের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া নয়, দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকেই ভাবনার অংশ করে নিতে চাইতেন গম্ভীর। তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিতেন। ক্রিকেটারের আত্মবিশ্বাসে যাতে চিড় না ধরে, সে দিকেও নজর ছিল গম্ভীরের। তার উদাহরণও দিয়েছেন ভেঙ্কটেশ। আরসিবির এক ম্যাচে বিরুদ্ধে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। অথচ পরের ম্যাচেই নামতে হয় আটে। খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র শেষ বলটি। স্বাভাবিক ভাবেই এমন পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারত। কিন্তু গম্ভীর তাঁকে বুঝিয়েছিলেন, দলের প্রয়োজনে ভূমিকা বদলাতেই পারে।

ফাইল ছবি।

ভারতের বর্তমান হেডকোচ বোঝাতে চেয়েছিলেন, একজন ক্রিকেটারের গুরুত্ব তিনি কত বল খেললেন বা ব্যাটিং অর্ডারে কোথায় নামলেন, তার উপর নির্ভর করে না। কখন শ্রেয়স বড় রান করবেন তো ৯০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে জেতাবেন নারিন। আবার রমনদীপ কখনও সংক্ষিপ্ত অথচ কার্যকর ইনিংস খেলে ম্যাচের রং বদলে দেবেন। ২০২৪ সালের আইপিএলে কেকেআরের পারফরম্যান্সে সেই দর্শনেরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল। আর সেই মানসিকতাই কেকেআরের ড্রেসিংরুমকে করে তুলেছিল একদল ‘সিংহে’র আস্তানা। প্রত্যেকে জানতেন, কখন তাঁদের দায়িত্ব নিতে হবে। সেই বছর ফাইনালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারিয়ে তৃতীয়বারের জন্য আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কলকাতা।

Source: Sangbad Pratidin Sports (Bengali)

Read full article on Sangbad Pratidin Sports (Bengali)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

समाचार की भाषा चुनें / Choose News Language