গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান ও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই বিমান হাইজ্যাক করেছিল ওমানের জেহাদি পাইলট। গাজার বদলা নিয়ে শহিদ হিসেবে মরতে চেয়েছিলেন তিনি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে তদন্তকারীদের জেরার মুখে এমনই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন হামাম আল হামামি।
তদন্তকারীদের জেরায় হামামি ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ক্যাপ্টেনকে খুনের পর বিমানটি স্বাভাবিক ভাবেই তেল আভিভের দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। সেখানে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি নিয়ে শেষ মুহূর্তে টার্মিনাল বা অন্য কোনও বিমানের উপর আছড়ে পড়াই ছিল উদ্দেশ্য। ইতালির এক সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামামির পরিকল্পনা ছিল ক্যাপ্টেন স্মিতকে হত্যা করা করা। এরপর তেল আবিবের কোনও বহুতলে সেটিকে আছড়ে ফেলা। সেই লক্ষ্যে ককপিটে নমাজ পড়ার অছিলায় ককপিটে থাকা কুড়াল বের করে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে সে। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রথম পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ মুহূর্তে বিমানটিকে মরুভূমিতে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করে হামামি। নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয় অটো পাইলট। মাত্র ৩০ সেকেন্ডে বিমানটি প্রায় ১৬,০০০ ফুট নিচে নেমে যায়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মচ্ছর ককপিটের দরজা খুলে বিপদ সংকেত পাঠাতে সক্ষম হন। এরপর কেবিন ক্রু, যাত্রী এবং বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলট মিলে হামামিকে কাবু করেন। বিমানটিকে সৌদি আরবে অবতরণ করানো হয়।
হামামি জানিয়েছে, “গাজার প্রতিশোধ হিসেবেই আমি এটা করেছি। আমার লক্ষ্য ছিল, বিমানের যাত্রীদের সঙ্গে নিজেকে শেষ করে একজন শহিদের মৃত্যুবরণ করা।”
তদন্তকারীদের জেরায় হামামিকে স্বীকার করেছেন, এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা ছিল না। ফ্লাই দুবাইতে যোগ দেওয়ার আগেই সে এই পরিকল্পনা করেছিল। হামামি জানিয়েছে, “গাজার প্রতিশোধ হিসেবেই আমি এটা করেছি। আমার লক্ষ্য ছিল, বিমানের যাত্রীদের সঙ্গে নিজেকে শেষ করে একজন শহিদের মৃত্যুবরণ করা।”
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, গত জুলাই মাসে এই হামলার পরিকল্পনা করেছিল হামামি। তবে ক্রু-র এক সদস্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে যাওয়ায় সে যাত্রায় পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। সেবার জর্ডনের আকাশে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। জুন মাসে ফ্লাইদুবাই-এর ডিউটিতে তেল আভিভে গিয়ে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের তথ্যও সংগ্রহ করেছিল এই সন্ত্রাসী।
